রায়েরবাজার বধ্যভূমির কাজ ১৪ ডিসেম্বরের আগেই শেষ করার আশা মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রীর

রায়েরবাজার বধ্যভূমির কাজ ১৪ ডিসেম্বরের আগেই শেষ করার আশা মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রীর
রায়েরবাজার বধ্যভূমির কাজ ১৪ ডিসেম্বরের আগেই শেষ করার আশা মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রীর

রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে সংরক্ষণ ও উন্নয়নকাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান।

আগামী ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আগেই প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে স্থাপনাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সরেজমিনে পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বধ্যভূমিতে নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। এ সময় স্থাপনাগুলোর যথাযথ ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।

মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। এই ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সবার দায়িত্ব। বিএনপি সরকার যতবার নির্বাচিত হয়েছে, ততবারই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে শায়িত শহীদদের আত্মত্যাগ যেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম স্মরণ করে, সে লক্ষ্যেই এখানকার স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ ও কার্যকরভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্দেশ্যেই তিনি সরেজমিনে কাজের অগ্রগতি দেখতে এসেছেন।

বধ্যভূমিতে নির্মিত লাইব্রেরিতে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা এবং গবেষণার সুযোগ থাকবে বলে জানান মন্ত্রী। আর্ট গ্যালারিতে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা, যুদ্ধের স্মৃতি ও বীরত্বগাথা তুলে ধরা হবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও শহীদদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানার সুযোগ পাবে।

মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের গৌরব। এই গৌরব ও ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে যাওয়া প্রয়োজন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের মূল লক্ষ্যও হলো নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও গৌরবগাথা তুলে ধরা।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ‘১৯৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার জন্য ব্যবহৃত বধ্যভূমিসমূহ সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়) (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৬৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

প্রকল্পের আওতায় লাইব্রেরি কাম অডিও-ভিজ্যুয়াল হল, আর্ট গ্যালারি, প্রশাসনিক ও অফিস কক্ষ, জেনারেটর রুম, ১০টি দোকান এবং সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ, নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার জন্য ১০০ কেভিএ ট্রান্সফরমার, ৪০ কেভিএ জেনারেটর, সিসিটিভি ক্যামেরা, সৌরবিদ্যুৎব্যবস্থা, ইন্টারকম, স্টেজ লাইটিং, সেন্ট্রিফিউগাল পাম্প ও অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছে। নবনির্মিত লাইব্রেরি, অডিও-ভিজ্যুয়াল হল ও অফিস কক্ষের জন্য আসবাবপত্রও সরবরাহ করা হয়েছে।

তবে পরিদর্শন শেষে লাইব্রেরি কাম অডিও-ভিজ্যুয়াল হল ও আর্ট গ্যালারির কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। আগামী ২৯ অক্টোবর প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করে অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করা এবং স্থাপনাগুলোর ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর, অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. শাহজাহান মিয়া, যুগ্ম সচিব ও মন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. জেহাদ উদ্দিন, যুগ্ম সচিব (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ সামছুল হকসহ মন্ত্রণালয় ও প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।