স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর রাজধানী ঢাকায় প্রকাশ্যে পাকিস্তান দিবস পালন করা হয়। ১৯৪৭ কে জাতীয়ভাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করতে হবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে পাকিস্তান দিবস পালনের স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে আজাদী উদযাপন জাতীয় কমিটি।
১৪ আগস্ট(শুক্রবার) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আজাদী উৎসব ২০২৬ নামে দুই দিনব্যাপী এই কর্মসূচি আজাদী উদযাপন জাতীয় কমিটির আয়োজনে করা হয়। আয়োজনে অংশ নেন বাংলাদেশে বসবাসরত বিহারীদের একটি অংশ। সেখানে মঞ্চ তৈরি করে প্রকাশ্যে পাকিস্তান দিবস পালন করা হয়।
বক্তারা বলেন, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা আমাদের আজকের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূলভূমি। মূল কেন্দ্র। বাংলাদেশের কোন অস্তিত্বই থাকতো না ১৪ই আগস্ট না হলে। আমরা কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্দা প্রতিষ্ঠিত যে পাকিস্তানের স্বপ্ন ছিল সেই স্বপ্ন আমরা ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত করতে পারি নাই। এটার জন্য বাহাদুরির কিছু নয়। বাংলাদেশকে একটা স্বাধীন সার্বভৌম মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে সভ্যতাগত রাষ্ট্র হিসেবে করার যে লড়াই সেই লড়াইয়ের অংশই হচ্ছে আমাদের জিন্নাকে স্মরণ করা। অনুষ্ঠানে প্রতিবছর ১৪ আগস্ট দিবসটি পালন করে পাকিস্তান।
আরও পড়ুনঃ ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনে স্বাধীনতা দিবস পালিত
পাকিস্তান দিবসে পাকিস্তানের প্রতি আমাদের শুভকামনা রইল। এবং আমাদের পাকিস্তান রাষ্ট্রের বাঙালি নেতা যারা তাদের জন্য দোয়া কামনা করছি।
কয়েকজন বক্তা, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে। একই সঙ্গে তৎকালীন পাকিস্তানি রাজনীতিবিদ ও নেতাদের প্রশংসা করতে দেখা যায় তাদের।
বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালে তো একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র হয়েই গেছে। মানে কি লাহোক প্রস্তাবের পূর্ণঙ্গ বাস্তবায়ন হয়েছে। আমরা আমাদের পূর্বপুরুষরা পাকিস্তান তৈরি করে গেছে কি হিসাবে? বাঙালিদের দ্বারা অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী নিকৃত হওয়ার জন্য না ১৯৪৭ সালে আমরা যে রাষ্ট্রটি পেয়েছি সে রাষ্ট্র আল্লাহ না করুক যদি সত্য খন্ড হয়ে যায় আমরা আমাদের আগাবীর আসলাবের কথা আমাদের পূর্বপুরুষদের রেখে যা আদর্শ সে আদর্শ থেকে কখনো আমরা বিচ্যুত হব না ৭১ ও ৪৭ এগুলো কোনটাই কোনটা সাংঘর্ষিক বিষয় না ১৯৭১ এ যা হয়েছে সেটা আমাদের খুব বড় কিছু হয়নি আমাদের মনে এক ইঞ্চিও বাড়েনি। পশ্চিমবাংলার কোন একটা গ্রামও যুক্ত বিহার আসামের কোন গ্রামও যুক্ত হয়নি। আরাও আমাদের সাথে যুক্ত হয়নি।
আয়োজকদের ব্যানারে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্টকে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে মুক্তি পাকিস্তান দিবস হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সপরিবারে নিহত হওয়ার দিনকে বলা হয় বাকশাল মুক্তি। আর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনকে উল্লেখ করা হয় আওয়ামী ফ্যাসিবাদ মুক্তি হিসেবে।
১৯৭১ সালে ভাইয়ে ভাইয়ে যুদ্ধ হল। এই যে ৭১ মুক্তিযুদ্ধের সময় বলা হচ্ছে ৩০ লাখ লোক মারা গেল। আমি সংখ্যা নিয়ে কথা বলবো না। নয় মাসে নয় মাসের গণহত্যা নিয়ে আমরা কথা বলি। কিন্তু ১৯০ বছর যে গণহত্যা হল, ব্রিটিশরা যে গণহত্যা করল সেই ব্রিটিশদেরকে বাংলাদেশের কোন মানুষের কোন লজ্জা করে না।
এখানে কোন শিল্প কল কারখানা কিচ্ছু ছিল না। যত শিল্প কলকারখানা হয়েছে পাকিস্তানের আমলে হয়েছে। আজকে যে পদ্মা সেতু নিয়ে কথা বলেন এই পদ্মা সেতু তো ১৯৬৬ সালে আইয়ুব খানের পরিকল্পনার ভিতরেই ছিল। আইউব খানরা যা কিছু দিয়ে গেছে সেগুলো ৩০/৪০/৫০ বছর পরে এসে যখন বাস্তবায়ন করতেছি তখন আমরা দেখি অমুকের স্বপ্ন বাস্তবায়ন তমুকের স্বপ্ন বাস্তবায়ন।
এ আয়োজনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন বাধা দিতে দেখা যায়নি। প্রকাশ্যেই চলে কর্মসূচি ও বক্তব্য।
এদিকে অনুষ্ঠানের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে এই ধরনের আয়োজনের বিরোধিতা করেন।
পাকিস্তানি দূতাবাস তারা তাদের দিবস পালন করবে এটা কোন বিষয় না। এবং বাংলাদেশে আমরা জানি যখন মুক্তিযুদ্ধ হয় তখন তো পাকিস্তানপন্থীরা ছিল। তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী ছিল। তা সে ধরনের কিছু শক্তি ঘরের মধ্যে থাকে সেটা তো আমরা নাকচ করতে পারবো না। কিন্তু দেখার ব্যাপার হচ্ছে তারা এই পাকিস্তান দিবসের নামে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করছে। তাদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তো মুক্তিযুদ্ধ মানে আমাদের স্বাধীনতার বিরোধিতা করা এই দেশের বিরোধিতা করা কিন্তু একটা দেশে বসবাস করে দেশের বিরোধিতা করার অধিকার তো কারো নাই স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর এমন আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।




