বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলি নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার আশঙ্কা বেড়েছে বলে সতর্ক করেছে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল। নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে ইসরায়েলিদের ভ্রমণ ও অবস্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রোববার প্রকাশিত নতুন নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল জানিয়েছে, সামনে ইহুদিদের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ধর্মীয় দিবস এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঘটনার কারণে ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কাউন্সিলের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে ইরান, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের চলমান সংঘাতের প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর ফলে ইসরায়েলি নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আশঙ্কাও বাড়ছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে পর্যালোচনার পর এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
নিরাপত্তা কাউন্সিলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবরে হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার তিন বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বড় ধরনের বিক্ষোভ হতে পারে। এসব কর্মসূচির কিছু অংশ ইসরায়েলি নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ যুক্তরাজ্যে ৬০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল, প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে ব্যাপক ভোগান্তি
ইউরোপের কয়েকটি দেশেও ইসরায়েলিদের লক্ষ্য করে হামাসের তৎপরতার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে কাউন্সিল। একই সঙ্গে আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরায়েলি নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি রয়েছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইয়েমেনভিত্তিক হুতি গোষ্ঠীর হুমকির বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের আশপাশের কয়েকটি দেশকে ইসরায়েলিদের জন্য তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় আজারবাইজান, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে উচ্চঝুঁকির দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া জর্ডান, কাতার, সোমালিল্যান্ড ও মিসরে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও ইসরায়েলি নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে মিসরের সিনাই উপদ্বীপে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব দেশে অবস্থানরত ইসরায়েলিদের নিরাপদ এলাকায় সরে যাওয়ার পাশাপাশি বিমান ট্রানজিটের সময় বিমানবন্দর ত্যাগ না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
ইরাক, কুর্দিস্তান, ইয়েমেন, ইরান, সিরিয়া, লেবানন ও সৌদি আরবে ইসরায়েলি নাগরিকদের ভ্রমণ আইনত নিষিদ্ধ বলে জানিয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল। এই নিষেধাজ্ঞা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ইসরায়েলিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, লিবিয়া, আলজেরিয়া ও সোমালিয়াকে ইসরায়েলিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রাখা হয়েছে। এসব দেশে ভ্রমণ না করার জন্য ইসরায়েলি নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল।
বাংলাদেশ ও ইসরায়েলের মধ্যে বর্তমানে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এবং বাংলাদেশে ইসরায়েলি নাগরিকদের নিয়মিত যাতায়াতও সীমিত। তবে বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রকাশিত সতর্কতামূলক তালিকায় বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।




