× Banner
সর্বশেষ
ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশি শ্রমিকদের আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ চান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রকল্পের টাকা জনগণের, এক টাকার অপচয়ও সহ্য করা হবে না: তথ্যমন্ত্রী হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগানো দালাল চক্র ও সিজার বাণিজ্য স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা গড়া সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার: মীর শাহে আলম বাঘ রক্ষা মানেই সুন্দরবনের প্রতিবেশ সুরক্ষা: পরিবেশ মন্ত্রী দেশেই উন্নত চিকিৎসায় বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে: ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন যশোর সিমান্ত এলাকায় বিজিবি অভিযানে মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান পণ্য আটক  নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে জাতীয় পর্যায়ে শৈলকুপার তিন কিশোরীর সাফল্য নগদ বিক্রি নিয়ে গুজব ভিত্তিহীন, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা বহাল থাকবে: ফকির মাহবুব আনাম জামায়াত নেতার ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা বিধবা নারী; গর্ভের সন্তান নষ্টের অভিযোগ

পি আই ডি

হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগানো দালাল চক্র ও সিজার বাণিজ্য স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

admin
হালনাগাদ: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

ঢাকা: সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার কঠোর ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে সিজারিয়ান অপারেশনের নামে রোগীদের ভয় দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে দেশব্যাপী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সিভিল সার্জনদের সমন্বয়ে অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

আজ রাজধানীতে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেন্ট রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি নিরসন: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার উপযোগী সেবা নিশ্চিত করতে ব্যয় দক্ষতার একটি দ্রুত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গবেষণার মূল চিত্র: বাজেট বাস্তবায়নে কাঠামোগত দুর্বলতা

অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। দেশের ৮টি বিভাগের ২২টি সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ওপর পরিচালিত এই গবেষণায় জানা যায়:

সামগ্রিক বাজেট ব্যবহার: ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জরিপভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর গড় বাজেট ব্যবহারের হার ছিল ৮৫%।

মাধ্যমিক স্বাস্থ্যসেবা: জেলা/মাধ্যমিক পর্যায়ের হাসপাতালে বাজেট বাস্তবায়নের হার সবচেয়ে কম, মাত্র ৭৮%।

যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় স্থবিরতা: সাধারণ সরঞ্জাম খাতে বরাদ্দের মাত্র ২৭% ব্যয় করা সম্ভব হয়েছে।

অব্যয়িত অর্থ: ৯৪% প্রতিষ্ঠানে অর্থবছর শেষে টাকা অব্যয়িত থাকলেও বিশেষজ্ঞরা এটিকে সরাসরি দুর্নীতির চেয়ে প্রশাসনিক জটিলতা ও কাঠামোগত দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

সিন্ডিকেটের টেন্ডার বাণিজ্য ও কোটি কোটি টাকার অপচয়

অতীত সরকারের দুর্নীতি ও কেনাকাটার অনিয়ম তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিতে অবাস্তব শর্ত জুড়ে দিয়ে টেন্ডার করা হতো।

অনিয়মের উদাহরণ: “আওয়ামী লীগ আমলে ১১ কোটি টাকার রেডিওথেরাপি মেশিন ১৮ কোটি টাকা দিয়ে দুটি কেনা হয়েছিল কেবল কমিশন বা লাভের জন্য। উপযুক্ত অবকাঠামো ও কারিগরি জনবল না থাকায় আজ তার একটি ফরিদপুর এবং অন্যটি খুলনায় অকেজো হয়ে পড়ে আছে।” — সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন।

স্বাস্থ্য খাতের যুগান্তকারী ৯টি উদ্যোগ ও ঘোষণা

১. ডায়ালাইসিস সেবার আধিপত্য অবসান: সিন্ডিকেট ভেঙে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে ডায়ালাইসিস মেশিন কিনবে। ফলে আগামী ডিসেম্বর থেকেই নামমাত্র খরচে ডায়ালাইসিস সেবা পাবেন রোগীরা।

২. নতুন ডায়ালাইসিস সেন্টার: প্রতিটি মেডিকেল কলেজে ৫০ শয্যা এবং জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস ইউনিট বসানো হবে।

৩. হামের টিকাদান জোরদার: বিগত ৪ বছর বন্ধ থাকা হামের টিকা সংগ্রহ কার্যক্রম পুনরায় চালু করে সম্প্রতি ১ লাখেরও বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে।

৪. এআই সমৃদ্ধ ‘কিট বক্স’ সেবা: ক্যান্সার ও ডায়াবেটিস শনাক্তে আগামী ৩ মাসের মধ্যে দেশের ১০টি উপজেলা ও ৯০টি ওয়ার্ডে ডোর-টু-ডোর স্বাস্থ্যসেবা চালু হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘরে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন।

৫. দালাল ও টেস্ট বাণিজ্য বন্ধ: সরকারি হাসপাতালে ডিউটি রেখে প্রাইভেট চেম্বার বা ক্লিনিকে রোগী পাঠানো এবং টেস্ট কমিশন খাওয়া বন্ধে কড়া নজরদারি চালু হচ্ছে।

৬. সিজারিয়ান প্রতারণা রোধ: নরমাল ডেলিভারি বাড়াতে ভুয়া ও আধুনিক সরঞ্জামহীন প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে সারপ্রাইজ ভিজিট ও সিলগালা অভিযান চলছে।

৭. অডিটে ঘুষ বন্ধের হুঁশিয়ারি: মন্ত্রণালয়ের কাজে অডিটের নামে ১ টাকা ঘুষ না দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “সৎ থাকলে কাউকেই ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। অডিটে অনৈতিক টাকা চাইলেই সরাসরি আমার কাছে আসুন।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মোঃ এনামুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা সহ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও নীতি-নির্ধারকেরা।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..