ঢাকা: পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, এমপি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, কেবল কাগজ-কলমে পরিকল্পনা বা সভা-সমাবেশ নয়, বরং মাঠপর্যায়ে কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় বিষয়।
আজ বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বৃক্ষরোপণ, সৌন্দর্যবর্ধন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন ও ঢাকার আধুনিকায়ন
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন বাস্তবায়নে দুই সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এলাকায় চলমান কার্যক্রমের নানা দিক সভায় তুলে ধরা হয়। নগর পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়নে সরকার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাসমূহকে যুক্ত করে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
প্রতিমন্ত্রীর মূল বার্তা: “প্রতিটি উদ্যোগের ফল যেন সাধারণ নাগরিকরা বাস্তবে অনুভব করতে পারেন, সেভাবেই আমাদের কাজ করতে হবে। কোনো বড় প্রজেক্ট শুরু করার আগে পাইলট প্রজেক্টের সফলতা মূল্যায়ন করা জরুরি।” — মীর শাহে আলম, এমপি।
কার্যক্রমে গতি বাড়াতে প্রতিমন্ত্রীর ৪টি প্রধান নির্দেশনা
নগর সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজ সুনির্দিষ্ট করতে মন্ত্রী মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিম্নলিখিত নির্দেশনা প্রদান করেন:
হালনাগাদ তালিকা তৈরি: কোথায় কোথায় নতুন বৃক্ষরোপণ, সৌন্দর্যবর্ধন এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে তার বিস্তারিত ডাটাবেজ তৈরি করা।
অবকাঠামোর তথ্য সংরক্ষণ: নতুন বসানো ময়লার বিন এবং সৌন্দর্যবর্ধনকাজের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ করে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া।
কঠোর তদারকি: পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম যেন সাময়িক না হয়; নিয়মিত এবং ধারাবাহিক মাঠপর্যায় মনিটরিং জোরদার করা।
দৃশ্যমান ফলাফল: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে এসব কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন, তাই সব উদ্যোগকে বাস্তবসম্মত ও দৃশ্যমান হতে হবে।
সভায় উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ সভায় ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুস সালাম, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীরসহ উভয় সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য ও প্রকৌশল বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নগর উন্নয়ন অনুবিভাগের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।