সারাদেশে খননকৃত খালগুলোকে আয়বর্ধক খাতে রূপান্তর করতে হবে: ত্রাণমন্ত্রী

সারাদেশে খননকৃত খালগুলোকে আয়বর্ধক খাতে রূপান্তর করতে হবে: ত্রাণমন্ত্রী
সারাদেশে খননকৃত খালগুলোকে আয়বর্ধক খাতে রূপান্তর করতে হবে: ত্রাণমন্ত্রী

সারাদেশে বিভিন্ন সময়ে খনন ও পুনঃখনন করা খালগুলোকে কেবল পানি নিষ্কাশন বা জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজে সীমাবদ্ধ না রেখে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আয় ও কর্মসংস্থানমূলক কাজে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কেআইবি সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ত্রাণনির্ভরতা কমিয়ে স্বাবলম্বিতা অর্জন:

ত্রাণমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচিকে শুধু প্রচলিত সহায়তা বা ত্রাণনির্ভর না রেখে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্বাবলম্বিতা নিশ্চিতের দিকে মোড় ঘোরাতে হবে। খননকৃত খালের সঠিক ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ ও স্থানীয় পরিবেশের ওপর ভিত্তি করে সমন্বিত চাষাবাদ বা কৃষি-মৎস্য খাতের মতো আয়বর্ধক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।

তিনি জানান, মানুষের টেকসই আয়ের পথ তৈরি করতে পরীক্ষামূলকভাবে চলতি বছর ২৫টি উপজেলায় একটি নতুন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। সেখানে মাশরুম চাষের মতো কম পুঁজিতে লাভজনক উদাহরণের প্রসারে প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেন তিনি।

খাদ্য সহায়তা চাল বৃদ্ধি ও ব্যাংকিং সুবিধা:

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির চালের পরিমাণ পুনর্মূল্যায়নের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, একজন দরিদ্র মানুষকে মাত্র ১০ কেজি চাল দেওয়ার বিষয়টি বর্তমান বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই এটি বাড়িয়ে ২০ কেজি করার একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে, যার জন্য অতিরিক্ত প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন হবে।

পাশাপাশি, অনিয়ম ও অপচয় রোধ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সমস্ত সরকারি সহায়তা সরাসরি ব্যাংকিং বা ডিজিটাল মাধ্যমের মাধ্যমে বিতরণের ওপর জোর দেন তিনি।

‘কাবিখা’ ও ‘কাবিটা’র নাম পরিবর্তনের আশ্বাস:

যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) এবং কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচির নাম ও কাঠামো পরিবর্তনের বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন ত্রাণমন্ত্রী। এ বিষয়ে পর্যালোচনার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রধান এবং মহাপরিচালককে সদস্য সচিব করে একটি কমিটি গঠনের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

তিনি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, কেবল অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থ ব্যয়ের ওপর সফলতা নির্ভর করে না; প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার মান কতটা পরিবর্তন হলো, তা দিয়েই মূল সাফল্য পরিমাপ করা হবে।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন ও সচিব সাইফুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মাঠপর্যায়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা (পিআইও)।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
ACP
সংবাদ প্রতিনিধি

ACP

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।