বাংলাদেশকে শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়, বরং বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ও ফ্রন্টিয়ার প্রযুক্তি খাতের উদ্ভাবক এবং উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে সরকার দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।
রাজধানীর নভোথিয়েটারে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড BEAR সামিট ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত রূপকল্প ‘Science to Economy: Building a Market-Linked, Innovation-Driven Bangladesh’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমান শতাব্দীতে নেতৃত্ব দেবে সেই দেশগুলো, যারা জ্ঞান সৃষ্টি, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে ধারাবাহিক বিনিয়োগ করতে সক্ষম হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার চারটি প্রধান অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে।
প্রথমত, স্টেম (STEM) শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, যেখানে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, গবেষণাকে বাজারমুখী করা, যাতে গবেষণার ফলাফল শুধু একাডেমিক প্রকাশনায় সীমাবদ্ধ না থেকে শিল্পের বাস্তব সমস্যার সমাধান এবং অর্থনৈতিক মূল্য সৃষ্টি করতে পারে।
তৃতীয়ত, উদ্ভাবন থেকে বাজারে সংযোগ, যেখানে উদ্যোক্তা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী জাতীয় উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চতুর্থত, ফ্রন্টিয়ার প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ, যার আওতায় সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বায়োটেকনোলজি, রোবোটিক্স, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং কোয়ান্টাম প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সচিব জানান, সামিটে প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে একাডেমিয়া, শিল্পখাত এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতায় দেশের সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করতে একটি বাস্তবভিত্তিক জাতীয় রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হবে।
তিনি আরও জানান, সরকারের পরিকল্পনায় ন্যাশনাল বায়োটেক পার্ক এবং ন্যাশনাল এআই ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগও রয়েছে, যা দেশের উচ্চপ্রযুক্তি গবেষণা ও উদ্ভাবনকে নতুন মাত্রা দেবে।
বক্তব্যে তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নীতিগত দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ও অংশীদারদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি প্রতিযোগিতার পাশাপাশি বৈশ্বিক সহযোগিতার মাধ্যমেও অর্জিত হয়। বাংলাদেশকে ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত, উদ্ভাবননির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে দেশি-বিদেশি সব অংশীদারের সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান তিনি।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ জব্বার বক্তব্য দেন। দুই দিনের এই আয়োজনে দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, প্রযুক্তিবিদ, শিক্ষাবিদ, শিল্পোদ্যোক্তা, তরুণ উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।