সীমানা পিলার চোর চক্রের তিন সদস্যকে আটকের পর ছেড়ে দিলো চেয়ারম্যান

সীমানা পিলার চোর চক্রের তিন সদস্যকে আটকের পর ছেড়ে দিলো চেয়ারম্যান

দুলাল পাল, স্টাফ রিপোর্টারঃ মানিকগঞ্জের ঘিওরে সীমানা পিলার চোর চক্রের তিন সদস্যকে আটকের পর ছেড়ে দিয়েছেন স্থানীয় এক চেয়ারম্যান। তবে এ বিষয়ে পুলিশ কিছু জানে না।

শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ঘিওর থানার রাম দিয়া নালী ইউনিয়নের কুন্দুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস মধু চোর চক্রকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

আটককৃতরা হলেন- উভাজানী গ্রামের হানিফ বিশ্বাসের ছেলে লাভলু বিশ্বাস, বাবুল বিশ্বাস ও আশরাফুল ইসলাম ওরফে লেবু।

জানা গেছে, কুন্দুরিয়া গ্রামে মাটির নিচে থাকা একটি সীমানা পিলার চুরি করতে গেলে ওই তিনজনকে আটক করে গ্রামবাসী। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা আরো বেশ কয়েকজন পালিয়ে যায়। পরে আটককৃতদেরকে চেয়ারম্যানের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারেন, একটি সীমানা পিলার চুরি করতে গিয়েছিলেন তারা। এ সময় এ চক্রের সাথে জড়িত অন্যদের নাম বলেন আটককৃতরা। তারা হলেন- নালী গ্রামের মোকলেস, বানজান গ্রামের চান্দু, উভাজানী গ্রামের রুবেল ও সুদেব।

সূত্র জানায়, সবকিছু শোনার পর চেয়ারম্যান বিষয়টি পুলিশকে না জানিয়ে নালী বাজার কমিটির সভাপতি আনিস, উভাজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ইদ্রস বিশ্বাস, নারু মন্ডল ও বিল্লাল মেম্বারের জিম্মায় ছেড়ে দেন।

চেয়ারম্যান বলেন, গ্রামবাসী তিনজনকে আটক করে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু তারা চুরি করে নাই। তারা সবাই ভালো পরিবারের ছেলে। তবে ভয়ের কারণে হয়ত পিলার চুরির কথা বলে থাকতে পারে।

সূত্র আরও জানায়, এর আগেও তারা একাধিকবার সীমানা পিলার চুরির চেষ্টা করেছে। এ ছাড়া আটক তিনজনের বিরুদ্ধে এর আগেও হেলাচিয়া গ্রামে ডাকাতি করার অভিযোগ রয়েছে। গ্রামবাসী তাদের আটক করে গণধোলাই দিলে বিচারের নামে তাদের ছাড়িয়ে আনেন এই চেয়ারম্যান। তবে তাদের আর বিচার করা হয়নি।

এছাড়াও একাধিকবার লোকজনকে মারধোর করার অভিযোগে লাখ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছে তাদের। এই পরিবারটির অপকর্মের কথা এলাকাবাসীর কাছে অজানা নয়। তবে চেয়ারম্যান তাদের ভালো পরিবারের ছেলে বলায় এলাকায় নতুন করে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নিশ্চিত করেছেন, আটক তিনজনই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারপরও স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কেন তাদের রক্ষায় এতো তৎপর হলেন তা বোধগম্য নয়।

এবিয়য়ে জানতে চাইলে ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল আলম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।