সিডিএর জায়গা প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে, ঘুমাচ্ছে সিডিএ

রাজিব শর্মা,চট্টগ্রামঃ সারাদেশে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের

জায়গা দখলে নিচ্ছে ভূমি দস্যু, রাজনৈতিক নেতা

বা প্রভাবশালী মহল। সংশ্লিষ্ট দপ্তর এসব জায়গা

উদ্বারে আন্তরিক নন। আবার অনেক

ক্ষেত্রে অর্থের বিনিমিয়ে নীরব ভূমিকা

রাখছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও

আবাসিক এলাকায় ব্যাপক অনিয়ম ও জায়গা দখলের

অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে

চাঞ্চল্যকর তথ্য। অত্র এলাকাজুড়ে জনকল্যাণ

ও সমাজসেবার লক্ষ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তর

কর্তৃক নিবন্ধিত একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

তাদের ব্যাপক উন্নয়ন কাজ প্রশংসনীয়

হলেও, রয়েছে নিয়ম বহির্ভূত কাজের

অভিযোগ। বি-ব্লক ১১ নং সড়কে প্রবেশ

মুখে হামিদ শাহ মাজারের পাশ ঘেঁষে সিডিএ

কর্তৃপক্ষের প্রায় দেড় কাঠা একটি জায়গা

পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। বর্তমানে জায়গাটি অবৈধ

ভাবে দখল নিতে নির্মাণ কাজ চালাচ্ছে

প্রভাবশালী মহল। তবে সিডিএ কর্তৃপক্ষের

কোন অনুমতি তারা নেননি।

একই জায়গায় অপর এক পাশে দেখা গেছে,

পিলারের কুটি দিয়ে দোকান বসানো

হয়েছে। এখানে প্রতিদিন গরুর মাংস বিক্রি করা

হয়। তবে প্রতিটি গরু বাবদ জায়গা ভাড়া তিনশত টাকা

আদায় করেন অত্র প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয়রা জানান, তারা যখন যা খুশি অনায়াসে করে

চলছে, কখনো কোন নীতিমালা বা আইন

তোয়াক্কা করেন না।

অন্যদিকে, মসজিদ ও কবরস্থানের উত্তর পাশ

ঘেঁষে সিডিএ কর্তৃপক্ষের পরিত্যক্ত কিছু

জায়গা দখল করে নেওয়া হয়। এখানে নির্মাণ করা

হয় সেমিপাকা ৯টি ঘর। সিডিএ পাবলিক স্কুল এন্ড

কলেজ মাঠের তিন পাশে ফুট ওয়াকওয়ে

নির্মাণ করে স্কুলকে জিম্মি করা হয়। নির্মাণ করা

যাচ্ছে না স্কুলের সীমানা প্রাচীর।

শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থী সহ প্রতিষ্ঠানটি

ব্যাপক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে।

অত্র এলাকায় সিডিএ কর্তৃক বরাদ্দকৃত একটি

খেলার মাঠ রয়েছে। সে মাঠের প্রায় ১২ কাঠা

জায়গা ইতিমধ্যে ক্রীড়া কমপ্লেক্স এর নামে

দখলে নেওয়া হয়েছে। চারপাশে লোহার

ঘেরাও দেওয়া আছে। ফুটবল মাঠের চারপাশ

ইতিমধ্যে পিলার নির্মাণ করা হয়েছে।

অথচ, খেলার মাঠ সবসময় উন্মুক্ত রাখার বিধান

আছে। রাস্তাঘাট উন্নয়নের নামে প্রায় সড়ক

পুনরায় নির্মাণ করা হচ্ছে। অপরিকল্পিত সড়ক

উন্নয়নের ফলে অনেকের বাড়ী ঘর

সড়কের নীচু হয়ে পড়ছে, যার ফলে অল্প

বৃষ্টিতে ঘরের নীচ তলা পানিতে তলিয়ে যায়।

প্রতিষ্ঠানটি এসব উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট

কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া বোধগম্য হয়নি।

এমন কি অনেক কাজ বিনা অনুমতিতে অর্ধেক

করে বন্ধ করে দেয়, পরে অনুমতি দিতে

বাধ্য হয়েছে সিডিএ ও সিটি কর্পোরেশন,

এমন ঘটনাও ঘটেছে।

সিডিএ কর্তৃক কবরস্থানের দেওয়াল নির্মাণ করা

হয়েছিল, বিনা অনুমতিতে দেওয়াল ভেঙে

ফেলে পুনঃরায় নতুন সীমানা তুলা হয়েছে।

সচেতন মহল মনে করেন, এরা দেশের তথা

সরকারের নিয়ম-কানুন কিছুই মানছে না।

সিডিএ বিধানে উল্লেখ আছে, সিডিএ প্রত্যেক

আবাসিক এলাকায় মহল্লা কমিটি বা মসজিদ কমিটিতে

সিডিএ কর্তৃক অবশ্যই এক বা একাধিক কর্মকর্তা ও

স্থানীয় প্লট মালিক গণের সম্মিলিত ভাবে

কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করতে হবে।

বাস্তবে কার্যকর পদক্ষেপ নেই সিডিএ।

বেশ কিছুদিন আগে, অত্র প্রতিষ্ঠানটি পত্রিকায়

বিজ্ঞাপন দিয়ে বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের আংশিক

কাজের জন্য সিডিএ কে কোটি টাকা লোন

দেওয়ার প্রস্তাব দেন।

অপরদিকে, সিটি কর্পোরেশন হোল্ডিং ট্যাক্স

এ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আদায় ও অত্র এলাকায়

উন্নয়নকাজ করার প্রস্তাবনা দিয়ে বিজ্ঞাপন

দেন পত্রিকায়। যা সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত। দুদক ও

সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক এ প্রতিষ্ঠানের

আয়ের উৎস, আয় ও ব্যয় অডিট করা জরুরী।

সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক আবাসিক

এলাকায় বাণিজ্যিক স্থাপনা উচ্ছেদ প্রক্রিয়া

ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে সিডিএ এখনো

পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেননি।

তবে প্রত্যেক প্লট মালিককে সময় বেধে

দেওয়া হয়েছে। অত্র এলাকায় প্রবেশপথ

রয়েছে প্রায় ৭টি। একটিতে চেকপোস্ট

থাকলেও বাকীপথ গুলো উন্মুক্ত। ব্যাপক

নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে জনসাধারণ। রীতিমত

সংঘটিত হয় নানা অপরাধ। অত্র

এলাকায় এতো

অনিয়ম হচ্ছে, সিডিএ কি ঘুমাচ্ছে? এমন প্রশ্ন

সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলছে!

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।