সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফেরত পাঠানোর বিপরীতে জবাবে যা বলেছে ভারত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফেরত পাঠানোর বিপরীতে জবাবে যা বলেছে ভারত

মৃত্যুদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ্দুজামান খানকে হস্তান্তরের আর্জি জানানোর সঙ্গে সঙ্গে কূচনৈতিক ভাবে দৃঢ় জবাব দিয়েছে ভারত।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, ‘ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের রায় সম্পর্কে ভারত অবগত। পাশের দেশ হিসেবে, ভারত বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যার মধ্যে রয়েছে শান্তি, গণতন্ত্র, এবং স্থিতিশীলতা। আমরা সর্বদা এই লক্ষ্যে সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখব’ কিন্তু ভারত যখন বাংলাদেশের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ ও সংযমী বার্তা দিচ্ছে, তখন পাল্টা কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘ভারত যদি এই (শেখ হাসিনা) গণহত্যাকারীকে আশ্রয় দেওয়া অব্যাহত রাখে, তাহলে ভারতকে বুঝতে হবে, বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে একটা শত্রুতা, একটা অত্যন্ত নিন্দনীয় আচরণ।’ কিন্তু বাংলাদেশ দাবি করলেই কি ভারতকে ফিরিয়ে দিতে হবে হাসিনাকে? শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করতে কি বাধ্য ভারত?

কী বলছে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হওয়া প্রত্যর্পণ চুক্তি? 

২০১৩ সালে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তখন কেন্দ্রে মনমোহন সিংয়ের সরকার। বাংলাদেশের মসনদে শেখ হাসিনা। সেই চুক্তিতে বলা হয়েছিল, আদালতের রায়ে প্রত্যর্পণ করানোর মতো অপরাধ করে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এক দেশ অপর দেশের হাতে তুলে দেবে। এই বিষয়ে সবিস্তার ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়েছিল, ন্যূনতম এক বছরের জেল হতে পারে, এমন অপরাধ করে থাকলে সেই ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণ করা হবে। এ-ও বলা হয়েছিল যে, যে অপরাধে তিনি দোষীসাব্যস্ত সেটিকে চুক্তি স্বাক্ষর করা দুই দেশেই শাস্তিযোগ্য হতে হবে।  অপরাধে প্ররোচনা দেওয়া বা সাহায্য করা ব্যক্তিকেও প্রত্যর্পণ করা যেতে পারে বলে জানানো হয়।

২০১৬ সালে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে চুক্তি সংশোধন করা হয়। সংশোধিত চুক্তিতে বলা হয়, কারও নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেই তাঁকে প্রত্যর্পণ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে অপরাধের প্রমাণস্বরূপ কোনও তথ্যপ্রমাণও দাখিল করতে হবে না। তবে এরইসঙ্গে চুক্তিতে স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে, অপরাধের চরিত্র যদি রাজনৈতিক হয়, তা হলে প্রত্যর্পণ করা হবে না। চুক্তির অত্য়ন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, এতে স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে, বিচারের নেপথ্যে যদি সৎ কোনও উদ্দেশ্য না-থাকে, তা হলে ভারত বা বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণ করবে না। অর্থাৎ চুক্তির এই অংশটি তুলে ধরে ভারত হাসিনাকে প্রত্যর্পণ নাও করতে পারে। কারণ শেখ হাসিনা বারবার অভিযোগ করছেন, সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যে তাঁকে শাস্তি দিতে এই ভিত্তিহীন মামলায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে বলা হয়, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে আশ্রয় দিলে তা হবে অবন্ধুসুলভ আচরণ ও ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞার সামিল। সাজাপ্রাপ্তদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ জানাই। দুই দেশের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে হস্তান্তর করা উচিত। আর এই আর্জি আসার সঙ্গে সঙ্গে কূচনৈতিক ভাবে দৃঢ় জবাব দিয়েছে ভারত।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।