বিশেষ প্রতিবেদকঃ ভাল নাম- আবদুস সবুর, ডাক নাম- সরই, পিতা- ইন্তাজ আলী, গ্রাম- সিংচাপইড়, ইউপি- সিংচাপইড়, উপজেলা- ছাতক, জেলা- সুনামগঞ্জ। তার সাথে আমার পরিচয় গত ক’দিন পূর্বে। সংবাদ সংগ্রহের কাজে গত কিছুদিন পূর্বে গিয়েছিলাম ছাতকের সিংচাপইড় ইউনিয়নের সিরাজগঞ্জ বাজার। সেখানকার এক চায়ের হোস্টেলে বসে যাদের নিমন্ত্রণে গিয়েছিলাম তাদের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। ওই সময় ষাটোর্ধ এক বুড়ো এসে আমার কাছে বসলেন।
জানতে চাইলেন, আমি কে, কোথায় থেকে আসছি, কি করি আর কোথায় যাবো? এক এক করে আমি সব বললাম। এরপর সবশুনে আমায় তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, এবার ভোটটা কাকে দিচ্ছ? কি বলবো ভাবতে না ভাবতে আবার বললেন, এবারও মানিক সাহেব জিতবে, নৌকাতেই ভোটটা দিয়ে দিও। আবারও কিছু বলবো ভাবছিলাম তার আগেই তিনি বলে উঠলেন, আমার নাতি সাংবাদিক, জামায়াত সমর্থন করে, এবার সেও নৌকায় ভোট দেবে বলে আমায় বলেছে। এবার আমার বলার সুযোগ হলো, বাতাস বুঝে পাল উড়ালাম, বললাম জ্বি এবার আমিও নৌকায় ভোট দেবো।
এবার তিনি মহা খুশি, আমার জন্য চায়ের অর্ডার করলেন, এরপর চা খেতে খেতে সাংসদ মানিকের বহু প্রশংসা শুনালেন। সে যা হোক, ততক্ষণে অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো। চায়ের হোস্টেলে বসে যাদের জন্য অপেক্ষা করছিলাম তারা আসলো, তাদের দেখিয়েও তিনি বললেন, ওই যে দেখছো আমার নাতিরা এরাও এবার নৌকায় ভোট দেবে। মুচকি হাসতে হাসতে চায়ের দোকান থেকে বের হলাম। এরপর মোটরসাইকেল চড়ে গন্তব্যে যেতে যেতে ওই দাদুকে নিয়েই কথা হলো। জানলাম, এমপি মানিক যখন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হন তখন থেকেই নাকি তিনি মানিকের খুব ভক্ত।
মানিকের জন্য পাগল প্রায়। এখন উঠতে বসতে শুধু মানিক আর নৌকার কথাই বলেন। যার সাথে দেখা হয় তাকেই জিজ্ঞেস করে এবার ভোট কাকে দিচ্ছ? যে বলে নৌকায় দেবো তাকে তাৎক্ষণিক ভাল লোকের সার্টিফিকেট দেওয়া থেকে শুরু করে চা-পানও খাওয়ান। যারা নৌকার কথা না বলে অন্য কারো কথা বলে, নৌকা আর মানিকের পক্ষে সমর্থন নিতে চলে কসরত। বলে-কয়ে কাজ না হলে চেনা লোক হলে গালাগালও দেন। অনেকেই নৌকায় ভোট দেবে বলে চা-পানও তার থেকে খেয়ে যায়। কথা বলতে বলতে গন্তব্যে পৌঁছা হলো। ওখানে এসে দেখা পেলাম তার নাতির। নাতির নামটা পূর্বের চেনা হলেও দেখাটা তখনই প্রথম।
এরপর কথা হলো, ফের শুরু হলো তাকে নিয়ে কথোপকথন। জানতে চাইলাম, আপনার দাদু এমপি মানিকের এতো ভক্ত তার কারনটা কি? জানলাম এমপি মানিক নাকি তাকে খুব মহব্বত করেন, দেখা হলে তার খুজ-খবর নেন, একবার নাকি তিনি এমপির থেকে কিছু সহযোগিতাও পেয়েছেন। আবার জানতে চাইলাম, আপনার দাদু বললেন এবারই নাকি প্রথম আপনি নৌকায় ভোট দিচ্ছেন। জবাবটা পেলাম এভাবে, ‘এটাও আপনাকে বলেছেন নাকি! আমিতো শুধু তাকে খুশি করবো বলে বলেছি।
তাছাড়া দেবো না বললেতো আর উপায় নেই! দাদু কম করে হলেও প্রত্যেকদিন আমার কাছে দশবার আসেন। দশবারই একি কথা, ভোটটা নৌকায় দিতে হবে। একারণে আমি বলে রেখেছি নির্বাচনের দিন আমার সাথে ভোট দিতে যাবেন, আপনাকে দেখিয়ে ভোটটা নৌকাতে দিয়ে আসবো। যদিও তিনি আজও এটা বিশ্বাস করেনি। তার কারণ আজ এখানে আসার আগেও তিনি একবার আমার সাথে দেখা করে বলেছেন আমি যেনো ভোটটা নৌকাতে দেই।’ সহকর্মীর সাথে প্রায় আধঘন্টার কথোপকথনে তার দাদুর ব্যাপারে যা জানলাম, নিঃসংকোচে এটা বলতে পারি, সাংসদ মানিক যার মিশে আছে নিশ্বাসে তিনি আর কেউ নয়, তিনি ষাটোর্ধ ওই বুড়ো মানিকপ্রেমী আবদুস সবুর।

