বিশেষ প্রতিবেদকঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিক ইমরান হোসেনের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ছাত্রলীগের সব ধরনের সংবাদ ও কর্মসূচি বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ঢাবিসাস)।
আজ শুক্রবার সকালে সমিতির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদুল হাসান নয়ন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সাংবাদিক সমিতির এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিজয় একাত্তর হল শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, গত ১৩ মার্চ সোমবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলে ভাঙচুরের সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে বার্তা সংস্থা ইউএনবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ইমরান হোসেনের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালান ছাত্রলীগের ১০ থেকে ১৫ নেতাকর্মী। হল ছাত্রলীগের সভাপতি ফকির রাসেল আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক নয়ন হাওলাদারের নির্দেশে এ হামলা চালানো হয়।
এ ঘটনার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে সাংবাদিক মারধরের ঘটনায়ও ছাত্রলীগ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ ধরনের প্রতিটি ঘটনায় প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগ বানিয়ে ‘বহিষ্কার’ করে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। এটি প্রকারান্তরে অপরাধীদের প্রশ্রয় দেওয়ার শামিল বলেও উল্লেখ করেন সমিতির নেতারা।
ছাত্রলীগের এমন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাবি সাংবাদিক সমিতি ছাত্রলীগের সব ইতিবাচক সংবাদ ও কর্মসূচি বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে গত ১৫ মার্চ সাংবাদিক সমিতি বিজয় একাত্তর হল শাখার কমিটি বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়ে ছাত্রলীগকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও ছাত্রলীগ নেতারা ওই আহ্বানে সাড়া দেয়নি। সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা এ ঘটনায় জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারে দাবি জানান। পাশাপাশি সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা বন্ধে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানান তাঁরা।





