বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে শিগগিরই ঢাকায় আবাসিক মিশন স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে আফ্রিকার দেশ কেনিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র ও প্রবাসী বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিষয়ক মহাপরিচালক রাষ্ট্রদূত জোসফাত মাইকারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকায় বাংলাদেশ ও কেনিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের তৃতীয় দফার বৈঠকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় বিষয়ক সচিব ড. নজরুল ইসলাম। এতে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত আগের বৈঠকের পর অর্জিত অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা
বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, নীল অর্থনীতি, সংস্কৃতি, খেলাধুলা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া দ্বৈত কর পরিহার, বিনিয়োগের প্রসার ও সুরক্ষা, নীল অর্থনীতি এবং চুক্তিভিত্তিক কৃষিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ঝুলে থাকা চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ওষুধ, তৈরি পোশাক, হালকা প্রকৌশল পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং কৃষি খাতে নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরে।
বাংলাদেশের ওষুধ ও পণ্যে আগ্রহ কেনিয়ার
কেনিয়া বাংলাদেশ থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নতমানের ওষুধ আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে দেশটিতে আরও বেশি বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করেছে কেনীয় প্রতিনিধিদল।
অন্যদিকে, বাংলাদেশে উন্নতমানের কফি, শিম, তুলা ও প্রক্রিয়াজাত মাংস রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছে কেনিয়া। দুই দেশের মধ্যে এসব পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতা জোরদারের সিদ্ধান্ত
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ এবং ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ)-এর আওতায় সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও কেনিয়া।
এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ে উৎসাহিত করার বিষয়েও একমত হয়েছে উভয়পক্ষ। ঢাকায় কেনিয়ার আবাসিক মিশন স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।





