ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহে দুদিন ঘরবাড়ি পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহে দুদিন ঘরবাড়ি পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহে দুদিন ঘরবাড়ি পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে প্রত্যেক নাগরিক ও পরিবারকে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় দিয়ে ঘরবাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর মতে, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং জমে থাকা পানি ও আবর্জনা অপসারণ ডেঙ্গু প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায়।

বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

জমে থাকা পানি পরিষ্কারের ওপর গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘরের আনাচকানাচ, রাস্তাঘাট, জনসমাগমস্থল এবং প্রতিদিন চলাচলের পথে বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা পানিতে ডেঙ্গু মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই এসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, প্রত্যেক ব্যক্তি ও পরিবার সপ্তাহে অন্তত দুই দিন নির্দিষ্ট সময় ব্যয় করে নিজেদের ঘরবাড়ি, আশপাশের পরিবেশ এবং মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল পরিষ্কার করলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আরও কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব।

সম্মিলিত উদ্যোগে প্রাণহানি কমানোর আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ডেঙ্গুতে বিভিন্ন বয়সের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এবং প্রাণ হারাচ্ছেন। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টা বহু পরিবারকে স্বজন হারানোর বেদনা থেকে রক্ষা করতে পারে।

তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের মানুষ অতীতেও বড় বড় অর্জন করেছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেন, সম্মিলিতভাবে বড় অর্জন সম্ভব হলে দেশের অন্যান্য সমস্যা সমাধানেও সবাই একসঙ্গে কাজ করতে পারবে না কেন?

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবীরা

তারেক রহমান জানান, দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় আড়াই কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), স্কাউটস, গার্ল গাইডস ও রেড ক্রিসেন্টের মতো সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সদস্যের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ও এসব সংগঠনের সদস্যরা প্রায় এক মাস ধরে প্রতি শনিবার দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের উদ্যোগে অংশ নিচ্ছেন।

সরকার ও জনগণের যৌথ উদ্যোগের ওপর জোর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমে থাকা পানি ও আবর্জনা পরিষ্কার করা জরুরি। টিকার কার্যকারিতা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন পরীক্ষায় ডেঙ্গুর টিকার কার্যকারিতা সীমিত দেখা গেছে।

তিনি আরও বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে পারলেই সরকার সফল হয়। সরকার ও জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ রোগে আক্রান্ত মানুষের প্রাণহানি কমানো সম্ভব। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।