শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥ শরীয়তপুর পৌরসভার স্বর্ণঘোষ গ্রামের বর্গাচাষি হাবিবুর রহমান বেপারীর ১৭ মন পাট গভীর রাতে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার দিবাগত গভীর রাতে কৃষক হাবিবুর রহমান বেপারীর বাড়ির আঙ্গিনায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, হাবিবুর রহমান বেপারীর নিজস্ব কোন জমি না থাকায় অন্যের জমি বর্গাচাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। গত মৌসুমে তিনি বর্গাচাষ করে ১৭ পাট ভাগে পান। চলতি রবি মৌসুমে রবিশষ্য আবাদের টাকার প্রয়োজনে পাট বিক্রির প্রস্তুতি নেন। বুধবার সারাদিন পাট মেপে গুছিয়ে বাড়ির আঙ্গিনায় রাখেন। আজ বৃহস্পতিবার আংগারিয়া বাজারে ওই পাট বিক্রি করার কথা ছিল। কিন্তু রাতের আধারে দুর্বৃত্তরা কৃষকের পাটগুলো পুড়িয়ে দেয়। বর্গাচাষি হাবিবুর রহমান স্ত্রী, ৫ মেয়ে ও এক ছেলে সহ ৮ সদস্যদের পরিবার নিয়ে অন্যের জমি বর্গাচাষ করে কোন রকম জিবিকা নির্বাহ করেন। তার এক মেয়ে কহিনুর বাকপ্রতিবন্ধী।
বর্গাচাষি হাবিবুর রহমান বলেন, আমার নিজস্ব কোন জমি নাই। অন্যে জমিতে বর্গাচাষ করে পরিবার নিয়ে কোন রকম জীবন যাপন করি। বর্গাচাষ করে ১৭ মন পাট পেয়েছিলাম। বৃহস্পতিবার আংগারিয়া বাজারে বিক্রি করে চলতি মৌসুমে রবিশষ্য চাষাবাদের জন্য অর্থ যোগান দিতাম। আজ হাটে নেয়ার জন্য গতকাল পাট মেপে বাড়ির উঠানে রাখি। গভীর রাতে কে বা কারা আমার পাটের পাড়ায় আগুন ধরিয়ে দেয়। আমারা টের পেয়ে আগুন নিভাতে চেষ্টা করে পাট রক্ষা করতে পারিনি। এ অবস্থায় চলতি মৌসুমে রবিশষ্য চাষ করার কোন উপায় নাই।
বর্গাচাষি হাবিবুর রহমানের স্ত্রী আলেয়া বেগম বলেন, আমার স্বামীর আয় রোজগারে ঠিকমত সংসার না চলায় আমিও ফেরী করে মহিলাদের বিভিন্ন কাপড় বিক্রি করে সংসারে হাল ধরি। আমার এক ছেলে আসাদুজ্জামান শরীয়তপুর ইসলামিয়া সিনিয়র কামিল মাদ্রাসায় আলিম প্রথম বর্ষে পড়ে ও মেয়ে অন্তরা শরীয়তপুর মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় নবম শ্রেনীতে পড়ে। ছেলের মেয়ের পরীক্ষার ফির টাকাও পাট বিক্রি করে দেয়া হতো। অনেক কষ্টে অর্জিত পাটগুলো পুড়িয়ে দেয়ায় ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া অনিশ্চয়তায় পড়েছে।





