লাখো ভক্তের আগমনে ব্রহ্ম হরিদাস ঠাকুরের নির্যান তিথি মহোৎসব

বেনাপোল প্রতিনিধি: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে তথা ভারত উপমহাদেশের অন্যতম তীর্থস্থান স্থল বন্দর বেনাপোল পাঠবাড়ীতে লাখো দর্শক ভক্ত ও শ্রোতার আগমনে হরিদাস ঠাকুরের নির্যাণ তিথি মহোৎসব পালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের অন্যতম হিন্দুতীর্থ পীঠ শ্রী শ্রী ব্রহ্ম হরিদাস ঠাকুরের পাঠবাড়ি আশ্রম। যশোর জেলা সদর থেকে ৩৫ কিলোমিটার পশ্চিমে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে অবস্থিত শ্রী মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যদেবের ভক্ত বৈষ্বকুল শিরোমনি শ্রী শ্রী  ব্রহ্ম হরিদাস ঠাকুরের সাধনপীট পাঠবাড়ি আশ্রম।

আশ্রমটি ভারত বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমারেখা থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দুরে। বৈষ্ণবকুল শিরোমনি শ্রী শ্রী হরিদাস ঠাকুরের ভজন কানন নামে পরিচিত সুদীর্ঘ সাড়ে ৫শ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ও গৌরাঙ্গ মহা প্রভুর স্মৃতি বিজড়িত স্থান বেনাপোল। পাঠবাড়ী আশ্রমে ৪ঠা ও ৫ই সেপ্টেম্বর ২দিন ব্যাপি বসছে শ্রী শ্রী ব্রহ্ম হরিদাস ঠাকুরের নির্যান তিথি উপলক্ষে মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠান ও নির্যান তিথি মহোৎসব।

উৎসবকে ঘিরে সীমান্তের পাঠবাড়ী আশ্রম এলাকা লাখো দর্শনার্থী ভক্তানুরাগী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে। জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে শিশু কিশোর, নারী পুরুষ ভীড় করে আশম প্রাঙ্গনে। দর্শণার্থী ও তীর্থযাত্রীদের মিলন মেলায় পরিনত হয়েছে বেনাপোল পাঠবাড়ী আশ্রম এলাকা।

বৈষ্ণবকুল শিরমনি হরিদাস ঠাকুরের ভজন কানন নামে পরিচিত সুদীর্ঘ সাড়ে ৫শ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহি ও গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর স্মৃতি বিজরিত বেনাপোল শ্রী শ্রী ব্রহ্ম হরিদাস ঠাকুরের পাঠবাড়ী আশ্রমে সাড়ম্বড়ে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।

জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মানবকুলের মিলন মেলায় পরিণত হয় অনুষ্ঠানস্থল। ২দিনব্যাপি মহাপ্রভুর নির্যান তিথী উপলক্ষে মহানামযঞ্জ অনুষ্ঠানকে ঘিরে পাঠবাড়ী আশ্রম এলাকায় বসে বিভিন্ন পণ্যের মেলা।

গতকাল সোমবার প্রথম দিন শ্রীমদভগবদ গীতা পাঠ ও ভগবত আলোচনা, মহাযজ্ঞের অধিবাস সংকীর্ত্তন।

আজ মঙ্গলবার ২য় দিনে উষালগ্ন থেকে অহরাত্র, মহানাম সংকীর্ত্তন, অতঃপর কুজ্ঞভঙ্গ, নগর কীর্ত্তন, ভোগ আরতি কীর্ত্তণ, মধ্যাহ্ন ভোজ, প্রসাদ বিতরণসহ বিকাল পর্যন্ত চলবে মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠান। মানুষের নগরিতে পরিনত হয় পাঠবাড়ী এলাকা।

নড়াইল, কুষ্টিয়া খুলনা, সাতক্ষিরা, মাগুরা, যশোর, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলা শহর থেকে আসা হাজার হাজার দর্শনার্থী ও ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে তীর্থ যাত্রীদের মিলন মেলাকে ঘিরে এক ভাব গাম্ভীর্যের উৎসবে রূপ নেয়। নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যাবস্থা।

পাঠবাড়ী অভ্যন্তরে দৃষ্টি নন্দন কারুকার্য্য খচিত দেবদেবী ভক্তদের প্রতীমা মুর্তি স্থাপিত মিউজিয়াম (স্মৃতিলীলা বিগৃহ দর্শন)। যা হিন্দু ধর্মালম্বিদের জন্য আকর্ষনীয়, পুজনীয়, শ্রদ্ধানীয় ও ঐতিহাসিক স্মৃতি ফলক হিসাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। আশ্রম কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফনিভূষন পাল বলেন মুর্তি বিগ্রহ গুলো ধর্মীয় দর্শনে বিশ্বের মধ্যে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বেনাপোল পাঠ বাড়িতে আবগহমান করা হয়েছে।

নির্যান তিথী আর মেলায় আসা ভক্ত এবং দর্শনার্থীদের মাঝে বয়ে যায় আনন্দের বন্যা। হিন্দু মুসলমান কোন ভেদাভেদ নেই এখানে। ধর্ম ভিন্ন হলে স্থানীয় মুসলমানদের যেন দ্বায়ভার বেশী। তাই সকলের সহযোগীতায় এ অনুষ্ঠানটি হয় মুখরিত।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।