রাস্তা তৈরি না করেই চলমান নদীর মধ্যে কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এই কালভার্ট নির্মাণে সরকারি কোষাগার থেকে ব্যয় করা হয়েছে ৭০হাজার টাকা। অথচ এই কালভার্টটি জনগণের কোনো কাজেই আসছে না। অপরিকল্পিত এমন উন্নয়ন হয়েছে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার আজমপুর ইউপির রামচন্দ্রপুর শ্বশান ঘাটের কপোতাক্ষ নদীতে।
জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে এডিপির আওতায় রামচন্দ্রপুর শ্বশান ঘাটের রাস্তায় বক্র কালভার্ট নির্মাণে ৭০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রাস্তা ছাড়াই নদীর মধ্যে অপরিকল্পিতভাবে কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছে। রামচন্দ্রপুর শ্বশান ঘাটে যাওয়ার কোন রাস্তা নেই। মাঠের ফসল জলবদ্ধতা থেকে রক্ষা পেতে রামচন্দ্রপুর শ্বশান ঘাটের রাস্তায় পানি নিস্কাশনে বক্র কালভাটের প্রয়োজন হলেও যেখানে রাস্তা নেই সেখানে নদীর মধ্যে এমন অপরিকল্পিতভাবে কালভার্টটি নির্মাণ নিয়ে নানা প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মনে।
স্থানীয়রা জানায়, কয়েক মাস আগে নদীটি খনন করা হয়েছে। এর আগে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা নদীর পাড়ের রাস্তা দিয়ে হেঁটে শ্বশান ঘাটে যেতো। কিন্তু নদী খননের ফলে সেই রাস্তাটি আর নেই। রাস্তা ছাড়া নদীতে কালভার্টটি নির্মানে সরকারের টাকা অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। অপরিকল্পিত এমন উন্নয়ন কর্মকা-ের নামে সরকারি কোষাগারের ৭০ হাজার টাকা পানিতে ভাসিয়ে দিয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
আজমপুর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন জানান, রামচন্দ্রপুর শ্বশান ঘাটের রাস্তায় একটি বক্র কালভার্ট নির্মান করা হয়েছে শুনেছি। যদি সেটি অপরিকল্পিত ভাবে হয়ে থাকে তাহলে ইঞ্জিনিয়ার ও স্থান নির্বাচন কারীর ভুলের কারনে হয়েছে বলে তিনি জানান। জরিনা রানী বালা নামের একজন নারী জানান, বর্তমানে শ্বশান ঘাটে যাওয়ার কোন রাস্তা নেই। রাস্তা তৈরি না করে কালভার্ট তৈরি শুধু অনর্থক হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে কালভার্টটি পানিতে ডুবে থাকবে কোন কাজে আসবে না।
মসলেম উদ্দিন জানান, কালভার্টটি আরো সড়িয়ে উচুঁ করে করার দরকার ছিলো। তাহলে হয়তো আমাদের উপকারে আসতো,এমন জায়গায় করেছে যা আমাদের মাঠের কৃষকদের কোন উপকারেই আসবে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নয়ন কুমার রাজবংশী জানান,সরেজমিন পরিদর্শন করে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।





