মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিঃ শেখ মুজিবুর রহমানের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন

এস.এম মফিদুল ইসলাম, পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি ॥  প্রবীন রাজনীতিবিদ জেলা আওয়ামীলীগের দীর্ঘদিনের কান্ডারী ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান তালা উপজেলার পাটকেলঘাটার বড়কাশিপুর গ্রামে ১৯৪৩ সালে ৩রা ডিসেম্বর এক মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তৎকালীন তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে যোগদান করেন।

ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শেষে কুমিরা বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় হতে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় ১ম বিভাগ অর্জন করেন। এর পর ১৯৬২ সালে রাজশাহী সরকারী কলেজ হতে আইএসসিতে ২য় বিভাগ অর্জন করেন। পরবর্তীকালে তৎকালীন পাকিস্থান ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি (বর্তমান বুয়েট) ঢাকা হতে ১৯৬৮সালে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার (সিভিল) ২য় শেণিতে উত্তীর্ন হন। ১৯৬২ সালে ছাত্রলীগে যোগদানের মধ্য দিয়ে তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়।

১৯৬৪ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বা পাকিস্থান ডেমোক্রেট মুভমেন্ট জোটের ফাতেমা জিন্নাহার  সমর্থনে আওয়ামীলীগের আহবানে ইঞ্জিনিয়ার ইউনিভার্সিটি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসাবে কাজ শুরু করেন। ১৯৬৬ সালে ছয়দফা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করেন। এছাড়া ১৯৬৬ হতে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তৎকালীন পাকিস্থান ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি (বর্তমান বুয়েট) শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি নির্বাচিত হন এবং  আওয়ামীলীগের সিনিয়র রাজনীতিবিদ শেখ মনি, সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাকসহ আরো অনেক নেতৃবৃন্দর সাথে পাকিস্থান বিরোধী আন্দোলনে নিয়োজিত হন। ১৯৬৯সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুসহ অন্য আসামিদের মুক্তির দাবিতে গড়ে তোলা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহন করেন। পূর্ব পাকিস্থানের স্বাধীকার আন্দোলনে গনঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহন করেন। ১৯৬৯ সালে সরকারী চাকুরি হওয়া সত্বেও তিনি সেখানে যোগদান না করে স্বাধীকার আন্দোলনে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তৎকালীন সাতক্ষীরা মহকুমার (বর্তমান সাতক্ষীরা জেলা) মুজিব বাহীনীর প্রধান হিসাবে দায়িত্ব গ্রহনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্থানী হানাদার বাহীনীর সাথে সস্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। যুদ্ধের সময় সহযোদ্ধাদের শহীদ হতে দেখেছেন এবং নিজ হাতে শহীদদের দাফন সম্পন্ন করেছেন।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর  সাথে দেশ গঠনে আওয়ামীলীগের দলীয়কাজে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত হন। ১৯৮৯ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত  সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জেলা আওয়ামীলীগের ১নং সদস্য  হিসাবে দায়িত্বে আছেন। ২০০১ সালে সাতক্ষীরা- ১ (তালা-কলারোয়া) আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। ২০০৮ সালে ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদে শেখ হাসিনার মনোনীত প্রাথী হিসাবে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। এমপি হওয়ার পর তিনি যোগাযোগ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সভাপতি নিযুক্ত হন । সংসদ সদস্য থাকা কালে তিনি সাতক্ষীরা সহ তার নির্বাচনী এলাকায় বহু উন্নয়ন মূলক কাজ করেন । যার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য ২৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে বহুল আলোচিত দক্ষিন-পশ্চিম অঞ্চলের মাইকেল মধুসূদন দত্তের     ৃস্বপ্নের কপোতাক্ষ সদ পূনখনন ১১৭ কোটি ব্যয়ে সাতক্ষীরা বাইপাস সড়কের কাজ ১৫৩ কোটি ব্যয়ে পাইক-গাছা -আশাশুনি  রোডনির্মান প্রকল্পের কাজ ছাড়াও প্রায় ১৩৩ কোটি টাকার অন্যান্য উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ করেন। এছাড়াও নিজ নির্বাচনী এলাকায় সাইক্লোন সেন্টার,স্কুল কলেজ ,কার্লভাট, ব্রিজ, পাকা রাস্তা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন।

তিনি তার মায়ের নামে পাটকেলঘাটায় আমিরুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ,কলারোয়ায় ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান কলেজ,পিতা মরহুম শেখ মকছেদ আলীর নামে কল্যান ট্রাষ্ট,ঢাকাস্থ তালা উপজেলা সমিতির সভাপতি সহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তিনি জন প্রতিনিধি হিসেবে তার নির্বাচনী এলাকায় প্রায়ই এসে সাধারন মানুষের সাথে কুশল বিনিময় ও রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকেন। রাজনীতিতে তিনি  একজন সৎ দক্ষ স্বচ্ছ ব্যাক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় পাচ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে এলাকায় উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।