মাথা গোজার ঠাই চায় ঘূর্ণিঝড়ে সর্বশান্ত হওয়া আশাশুনির বীরেশ্বর

সচ্চিদানন্দদেসদয়,আশাশুনি,সাতক্ষীরাঃ সরকারের কাছে থাকার মত মাথা গোজার একটু ঠাই চাইলো ঘূর্ণিঝড়ে সর্বশান্ত হওয়া আশাশুনির বীরেশ্বর।

সমুদ্রের জলরাশির সঙ্গে বাতাসের তীব্রতা এক একটা জনপদকে বিধ্বস্ত করে দেয়। নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় মানুষের ঘরবাড়ীসহ সকল সহায়-সম্পদ। ২৯সনভেম্বর ১৯৮৮ প্রলয়ংকারী ঘূর্নিঝড়ে বঙ্গোপসাগরের ডুবে যায় সহস্রাধিক মাছধরা ট্রলার, নিঁখোজ হয় হাজার হাজার জেলে। ভয়াল সে তান্ডবের কথা স্মরন করে এখনও আঁতকে ওঠে সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার নওয়া পাড়া গ্রামের বিহারি পরামান্যে পুত্র বিরেশ্বর পরামান্য(৬০)। প্রকৃতির রুদ্র খেয়ালে ক্ষত-বিক্ষত স্মৃতি বুকে নিয়ে সেদিনের স্বজন ও বন্ধুবান্ধব হারানো স্মৃতি নিয়ে আজও ঘুরে বেড়ায়।সেদিন হঠাৎ করেই ক্ষেপে যায় প্রকৃতি। মুহূর্তেই প্রবল ঘূর্ণিঝড় আর জলোচ্ছাস আঘাত হানে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মৃত্যুর নির্মম হিম শীতল পরশ আলিঙ্গন করে বীরেশ্বর ও তার সঙ্গীদের।

বীরেশ্বরের ভাষ্য মতে, আশার চরে ফরাজী নামক এক মাছ ব্যবসায়ীর সাথে ৬ মাসের জন্য জন প্রতি ৯ হাজার টাকার চুক্তিতে নওয়া পাড়া গ্রামের সুবোল,শিব,নরেন,জোড়দিয়া গ্রামের আনিজ আকবর,বড়দল গ্রামের ললিত সহ আরও আটদশ জন মাছ ধরতে যায়। ২৯ নভেম্ভর সারা দিন গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল,রাত ৮/৯ টার সময় হঠাৎ প্রবাল বেগে ঝড় উঠে।আমি(বীরেশ্বর)তখন নৌকার মুড়িতে বসে ছিলাম। সারাদিন খাওয়া দাওয়া হযনি,নৌকার ভিতর রান্না করতে পারে নি। নৌকায় শুকনো চাল ছিল তাই খেয়ে কোন রকমে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাটায়।

আমি(বীরেশ্বর)সকল কে বললাম আকাশের অবস্থা ভাল না,সুমুদ্রের গর্জন সুবিধা জনক না। কোথাও আলোর মুখ দেখা যাচ্ছেনা,শুধু পানি আর পানি,তোমরা জীবন বাঁচানোর জন্য প্রস্তত হও। তারপর আর কিছু মনে নেই। যখন আমার জ্ঞান ফিরলো তখন আমি দেখি কেওড়া গাছের একটা ডালে বসে আছি। ক্ষিদের চোটে তিন দিন কেওড়া খেওয়া ছিলাম। সেখান থেকে ফরেষ্টার লোকজন এসে উদ্ধার করে আমাকে বাড়ী পাঠিয়ে দেয়। সেদিন সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, মায়াবী চিত্রল হরিণসহ শত শত গবাদী পশুও রেহাই পায়নি। সর্বত্র ছিল মৃত দেহের বীভৎস দৃশ্য। আজও সেই দৃশ্যতেড়ে বেড়ায় বীরেশ্বর হৃদয়ে।

মানুষ আর পশুর লাশ একাকার হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল সাগর আর নদীর জলরাশিতে। অনেক জেলের লাশ সেদিন বাধ্য হয়ে মাটি চাপা দেয়া হয়েছিল সমুদ্রে জেগে ওঠা চরে। বীরেশ্বর বলেন প্রচন্ড জলের ধাক্কায় কানের পর্দা ফেটে যায়।অর্থনৈতিক দন্যতার কারনে ডাক্তার দেখাতে পারি না। আগে বেতনা, মরিচাপ, খোলপেটুয়ায় মাছ ধরে জীবন চলতো কিন্ত নদী গুলোর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় এখন আর মাছ পাই না। দুই ছেলে এক মেয়ে,স্ত্রী সহ খেয়ে না খেয়ে কোন রকমে চলে। তিনি আরও বলেন,বয়স আমাকে কাবু করে ফেলেছে, চোখে তেমন দেখি না, কানে তো অনেক আগেই শুনতে পায় না। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও একটু মাথা গোঁজার জায়গা করতে পারেনি। তিনি বলেন যদি কোন সহৃদয় ব্যক্তি বা সরকারি কোন প্রতিষ্ঠান বীরেশ্বরের দৈন্যতায় এগিয়ে আসেন তাহলে তাদের কাছে চির কৃতঞ্জ থাকবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Ovi Pandey
সংবাদ প্রতিনিধি

Ovi Pandey

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।