বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হবে বোয়িং ও এয়ারবাস – প্রতিমন্ত্রী

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হবে বোয়িং ও এয়ারবাস – প্রতিমন্ত্রী
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর বহর আরও আধুনিক ও সক্ষম করতে সরকার ভবিষ্যতে বোয়িং এবং এয়ারবাস—উভয় নির্মাতার উড়োজাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি টেকসই মিশ্র (Mixed Fleet) গড়ে তোলা।

বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, দেশের বিমান পরিবহন খাতের প্রয়োজন বিবেচনায় বোয়িং এবং এয়ারবাস—দুই ধরনের উড়োজাহাজই বহরে যুক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানি বা দেশের প্রতি পক্ষপাতমূলক নয়; বরং জাতীয় প্রয়োজন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বোয়িং ও এয়ারবাস কেনা নিয়ে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কেনার পরিকল্পনা এবং ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাসের প্রতি আগ্রহের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব রয়েছে কি না কিংবা এ সিদ্ধান্তে কোনো আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম এসব ধারণা নাকচ করে দেন।

তার ভাষ্য, দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো ব্যয়-সাশ্রয়ী নীতি অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় বহর সম্প্রসারণ

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার একটি চ্যালেঞ্জপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তাই একদিকে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে দেশের প্রয়োজনীয় খাতে বিনিয়োগ—দুই বিষয়েই সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, জাতীয় এয়ারলাইন্সের কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে আধুনিক উড়োজাহাজ সংযোজন অপরিহার্য। এ কারণেই বোয়িং ও এয়ারবাস—উভয় ধরনের বিমান সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বিনিয়োগে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে বাংলাদেশের স্বার্থ

বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট দেশকে বিশেষ সুবিধা দেয় না। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং জনগণের কল্যাণই সরকারের প্রধান বিবেচ্য বিষয়।

এয়ারবাস অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা নিয়ে ইউরোপীয় কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক

এর আগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দীর্ঘমেয়াদি বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচিতে এয়ারবাস উড়োজাহাজ যুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকরা অংশ নেন।

সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে একটি আধুনিক ও টেকসই মিশ্র বহর গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

সহযোগিতার আশ্বাস ইউরোপীয় ইউনিয়নের

বৈঠকে অংশ নেওয়া ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বাংলাদেশের এয়ারবাস কেনার আগ্রহকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি সম্ভাব্য উড়োজাহাজ ক্রয়, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এ সময় বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি বিমান পরিবহন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
ACP
লেখক / প্রতিবেদক

ACP

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।