অতিরিক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনে অর্থ লোপাটের অভিযোগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অতিরিক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনে অর্থ লোপাটের অভিযোগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
অতিরিক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ করেছেন, আগের সরকারের সময়ে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল ও কারিগরি দক্ষতা না থাকলেও কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে, যার অনেকগুলোই এখন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

আজ মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের বিষয়ে আলোচনা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক হাসপাতালে প্রয়োজনীয় জনবল কিংবা প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ান নেই। অথচ সেসব প্রতিষ্ঠানে বিপুল অর্থ ব্যয়ে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। ব্যবহার না হওয়ায় এসব যন্ত্রপাতির একটি বড় অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যেসব চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার উপযোগী অবস্থায় নেই, সেগুলো শেষ পর্যন্ত ভাঙারি হিসেবে বিক্রি করার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে এমন অনিয়ম আর মেনে নেওয়া হবে না বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুনঃ ঢাকার পরিবেশ উন্নয়নে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পরামর্শ স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর

স্বাস্থ্য খাতে সততা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হাসপাতালগুলোতে রোগীদের জন্য মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত সবাইকে রোগীদের সঙ্গে মানবিক, আন্তরিক ও সৌজন্যপূর্ণ আচরণ করতে হবে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার প্রতিটি স্তরে সেবার মান আরও উন্নত করার প্রয়োজন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। যারা সরাসরি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

আরও পড়ুনঃ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি মাদকসংক্রান্ত অপরাধে গ্রেপ্তারের পর জামিনে মুক্ত হয়ে আবার একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার বন্ধ করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী মিজ্ আফরোজা খানম, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর এবং মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মঈনুল ইসলাম খান।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
লেখক / প্রতিবেদক

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।