প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রতিটি শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করার প্রথম ধাপ হলো তাকে বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত করা। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্কুলে উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি পুষ্টির ঘাটতি পূরণ ও পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধিতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের কোনো শিশুকে বিদ্যালয়ের বাইরে না রাখা এবং বিদ্যালয়ে আসা প্রতিটি শিশুকে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্য অর্জনে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিকে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
আজ দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ প্রকল্প নিয়ে প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ববি হাজ্জাজ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সফলতা কেবল কতজন শিক্ষার্থীকে খাবার দেওয়া হলো, তার পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা যাবে না। বরং কর্মসূচির ফলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি কতটা বেড়েছে, ঝরে পড়ার হার কতটা কমেছে এবং শ্রেণিকক্ষে তাদের অংশগ্রহণ ও শেখার আগ্রহ কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি জানান, কর্মসূচির বাস্তব প্রভাব নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা হবে। ২০২৭ সাল থেকে দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভুল খুঁজে কাউকে দায়ী করা সরকারের উদ্দেশ্য নয়। কোথায় সমস্যা হচ্ছে, এর কারণ কী এবং কীভাবে দ্রুত তা সমাধান করা যায়—এসব বিষয় শনাক্ত করাই মূল লক্ষ্য।
এ জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও সুপারিশকে গুরুত্ব দিয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দুর্বলতা দূর করে এর কার্যকারিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসবে, বিদ্যালয়ে নিয়মিত থাকবে এবং সেখানে কার্যকরভাবে শিখবে—এই তিনটি বিষয় একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে। শুধু উপস্থিতির হার বাড়ালেই হবে না; বিদ্যালয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা প্রকৃত অর্থে কতটা শিখছে, সেটিও নিয়মিত মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও শিশুবান্ধব, কার্যকর ও ফলাফলনির্ভর করার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য, যেখানে কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে আসা প্রতিটি শিশু যেন মানসম্মত শিক্ষা পাওয়ার সুযোগ পায়, সেটিও নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করার পাশাপাশি তাদের পুষ্টি, উপস্থিতি ও শেখার পরিবেশ উন্নত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ইসরাত জাহান, স্কুল ফিডিং প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল আমিন এবং দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা।
মতবিনিময় সভায় দিনাজপুর জেলার প্রায় ৪৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অংশ নেন।





