× Banner
সর্বশেষ
বেনাপোল পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হতে চান ইমদাদুল হক ইমদাদ  শ্যামনগরে আন্তর্জাতিক ম্যানগ্রোভ দিবস উৎযাপন ১৭ বছরে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি – এসএম জিলানী  ঝিকরগাছায় শিশুদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ প্রমাণিত, তবুও বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বহাল তবিয়তে মহেশপুরে খাল থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার যশোর- নড়াইল মহাসড়কে বিজিবি অভিযানে ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা মূল্যের স্বর্ণবারসহ আটক-১ সাতক্ষীরায় আকস্মিক হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ‎বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গুরুতর আহত ৩ সন্তানের জনক লিটন, চিকিৎসায় আকুল মানবিক আবেদন সুমি আক্তার মিম হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিচার দাবিতে শিক্ষার্থী-স্বজনদের বিক্ষোভ ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে এমইপি গ্রুপ, কর্মসংস্থান হবে ২ হাজার মানুষের

বঙ্গবন্ধু সাইকেল চেপে ভাষণ দিতে আসার স্মৃতি আজও ভোলেনি চৌগাছার মানুষ

admin
হালনাগাদ: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৫

যশোর প্রতিনিধি: মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতি বিজড়িত কপোতাক্ষ নদের তীরে অবস্থিত ধূলিয়ানী ইউনিয়নের সর্ববৃহৎ গ্রাম মুক্তারপুর। ধূলিয়ানী ইউনিয়নের একমাত্র ডাকঘর এই মুক্তারপুর গ্রামে অবস্থিত যা স্থাপিত হয়েছে আজ থেকে ৬০ বছর আগে।

ধূলিয়ানী   ইউনিয়নের  জন্ম মুক্তিযুদ্ধের পর। চৌগাছা থানার সৃষ্টি হয়েছে স্বাধীনতার পরে। ১১ টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে চৌগাছা উপজেলা গঠিত। এর মধ্যে ৩টি ইউনিয়ন যথক্রিমে সুখপুকুরিয়া, নারায়নপুর ও স্বরুপদাহ নেয়া হয়েছে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলা থেকে, নেওয়া হয় হাকিমপুর, পাতিবিলা ও জগদীশপুর ইউনিয়ন ও একই জেলার কালিগঞ্জ উপজেলা থেকে। চৌগাছা, সিংহঝুলি, ফুলসরা, পশাপোল ও বহুল আলোচিত ধূলিয়ানী  এই ৫টি উইনিয়ন ছিল ঝিকরগাছা উপজেলার অন্তভূর্ক্ত।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ জাতীয় পরিষদ সদস্য ও সাবেক প্রাদেশিক মন্ত্রী  মরহুম মসিয়ূর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন মরহুম ভাটাই বিশ্বাস যার বাড়ি এই মুক্তারপুরে।  ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য পদে প্রার্থী ছিলেন শহীদ মসিয়ূর রহমান। জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান তখনো আওয়ামী লীগদের কাছে হয় শেখ সাহেব, নইলে মুজিব ভাই বলে পরিচিত। সেকালের বাঙ্গালীদের প্রিয় মুজিব ভাই যশোরের অসাধাণ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন নেতা জনাব মসিয়ূর রহমান কে আপন বড় ভাই এর মতো শ্রদ্ধা করতেন। তিন প্রোগ্রাম দিলেন তৎকালীন ঝিকরগাছা থানায় দুটি জনসভা করার।  একটি থানার উত্তর এলাকায়, অপরটি দক্ষিণে। উত্তর এলাকার জনসভার স্থান বঙ্গবন্ধু নিজেই নির্বাচন কওে দিয়েছিলেন। স্থানটি ছিল নায়ড়া গ্রাম।

সাতক্ষীরার সুলতানপুরের মরহুম খোন্দকার আব্দুল বাতেন ( তিনি খ্যাতনামা কলামিস্ট আব্দুল গফফার চৌধুরীর ঘনিষ্ট বন্ধু) মিয়ার বাড়ীতে রাত্রি যাপন কওে বঙ্গবন্ধু সেকালের সাতক্ষীরা-যশোর ইটের রাস্তায় চলাচলকারী লক্কড়মার্কা মাসে এসে নেমেছিলেন বাগআঁচড়া বাজারে। সেখান থেকে সাইকেলে চেপে দুর্গম রাস্তা পাড়ি দিয়ে নেতৃবৃন্দকে নিয়ে সভা করেন আজকের নায়ড়ার বাজারে। সভা শেষে রাত্রি যাপন করেন ঝিকরগাছা মোটর ব্রীজের প্রায় লাগোয়া দীনবন্ধু দফদারের দোতালায়। দোতলার ঐ কামরাটি তখন যুক্তপ্রন্টের নির্বাচনী কার্যালয় হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। রাত্রে দোতলার বিরাট খোলা ছাদে কর্মীদের নিয়ে সভা করেন তিনি। সে সভার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়কের দায়িত্ব দেয়া হয় মরহুম হাজী নুর বকসী সাহেবকে।

মরহুম হাজী নুর বকসী সাহেব ছিলেন ঝিকরগাছা থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। পরবর্তীতে জাতির ক্রান্তিলগ্নে ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলনের সময় তারই উপর অর্পিত হয় অষন্ড যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বভার। মরহুম হাজী নুর বকসী সাহেবের বাড়ি উজিরপুর- যা মুক্তারপুর গ্রামের একেবারেই লাগোয়া। মরহুম ভাটাই বিশ্বাসের সাথে তার ছিল নিবিড় বন্ধুত্ব। জনাব মসিয়ূর রহমানের আগাত স্নেহ এবং হাজী নুর বকসী সাহেবের বন্ধুত্বকে কাজে লাগিয়ে ভাটাই বিশ্বাস জেদ ধরেছিলেন দক্ষিনের জনসভাটি হবে মুক্তারপুরে। যশোর জেলা পরিষদ ১ম কিস্তিতে যে কয়টি প্রাথমিক বিদ্যারয় কে অনুদান দিয়েছিল তারই একটি আজকের মুক্তারপুর সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ের মাঠে অনতিদূরে নির্বাচনী সভা করেছিলেন।

জাতির জনক বঙ্গবব্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুক্তফ্রন্টের নৌকা প্রতীকের পক্ষে। সেই বিশাল জনসভার শ্রোতাদের মধ্যে আজো যারা জীবিত আছেন তারা  গর্বের সাথে স্মরণ করেন তাদের দূর্লভ সৌভাগের কথা। বর্ণনা দেন যুবক মুজিবের তেজোদীপ্ত বজ্রকন্ঠের অসাধারণ বক্তৃতার। সুদূর ঝিকরগাছা থেকে নিজ বাইসাইকেলে চালিয়ে  এসেছিলেন মুক্তারপুর গ্রামে। সভাশেষে নেতাকর্মীদেও খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছিল ভাটাই বিশ্বাসের বাড়িতে। সেই দূর্লভ মুহুর্তের স্মৃতির স্বাক্ষর বহন করে চলেছে মুক্তারপুর বঙ্গবন্ধু স্মৃতিস্তম্ভ।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..