ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ একই লক্ষ্যে একটি আঙ্গুলির হেলনে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে। একাত্তরে কিছু রাজাকার আল বদর ছাড়া সবাই মুক্তিযোদ্ধা। যে তারুণ্য মুক্তিযুদ্ধের মূল শক্তি ছিলো, তাদেরকে ৬৯ সাল থেকে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
মন্ত্রী আজ ঢাকায় জিপিও মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০১৯ উপলক্ষে ডাক অধিদপ্তর আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বাংলাদেশের ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পটভূমি তুলে ধরে বলেন, ১৯৪৭ সালের আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটি জন্ম নেওয়ার পর আগে যা ভাবা হয়েছিল তার উল্টো প্রতিফলন দেখা দিল। সৃষ্ট দেশটি সাম্প্রদায়িকতা বৈষ্যম্যে দুষ্ট। এ দেশের মানুষ তা চায় না ।
বঙ্গবন্ধু ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ পাকিস্তানের কাঠামোতে বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবি করেন। ৪৮ সালে ছাত্র সংগঠন ও আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
১৯৪৮ সাল থেকে আজকের দিন পর্যন্ত বাংলাদেশের উত্তরণের বিভিন্ন পেক্ষপট তুলে ধরে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, ১৯৪৭ সালের পর কাশ্মিরে স্বাধীনতার জন্য বিচ্ছিন্ন সংগ্রাম এবং সম্প্রতি স্পেনের কতালোনিয়ায় স্বাধীনতার জন্য বিচ্ছিন্ন আন্দোলন হচ্ছে কিন্তু তাদের অর্জন প্রশ্নবিদ্ধ। একজন বঙ্গবন্ধু ছিলেন বলেই আমরা বাংলাদেশ স্বাধীন করতে পেরেছি।
১৯৭১ সালে সংগ্রামের বিজয়ের জন্য বাঙালির নেতৃত্বের সফলতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু বহু আগেই প্রস্তুতির জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র অবস্থায় জনাব মোস্তাফা জব্বার এ বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, তখন থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে আমরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছি। চেগুয়েভার এবং ভিয়েত নামের হুচিমিনকে পড়তে বলা হয়েছে।
তিনি দেশের অগ্রগতিতে বঙ্গবন্ধুর উত্তরসূরি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্লের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় গত দশ বছরের সফলতা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ আজ অগ্রগতির অগ্রযাত্রায় বিশ্বের রোল মডেল।
মন্ত্রী ডাক, টেলিযোগাযো ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদেরকে ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিজ নিজ পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেন।
অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০১৯ এবং সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সুশান্ত কুমার মন্ডল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল ইসলাম এবং ডাক বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এসএস ভদ্র অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করে।





