জগৎ রায় ঠাকুর বংশীয় মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত

জগৎ রায় ঠাকুর বংশীয় মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত

বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বংশীয় সম্প্রীতি, পারস্পারিক সু-সম্পর্ক সৃষ্টি ও উন্নয়নের প্রয়াসে জগৎ রায় ঠাকুর বংশীয় মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বংশীয় মহাসম্মেলন

আজ ৭ মার্চ(শুক্রবার) বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া থানাধীন জলিরপাড় কীর্ত্তনীয়া বাড়ীতে এ মহা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সকাল ৮ ঘটিকায় শ্রীমদ্ভগবদ গীতা পাঠ ও মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর প্রয়াত পূর্বপুরুষ ও কুলমাতাদের আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা।

সকাল ৯.৩০ ঘটিকায় বংশের উৎপত্তি, ক্রমবিবর্তনের ইতিহাস পাঠ অন্যদিকে উপস্থিত জ্ঞাতিবর্গের নাম নিবন্ধন ও জ্ঞাতি পরিচয় ও সম্পর্ক নির্ধারণ।

বংশের উৎপত্তি ও ক্রমবিবর্তনের ইতিহাস পাঠে জানা যায়, জগৎ রায় ঠাকুর এর আদি নিবাস ছিল যশোর জেলার ভিমের টিলা নামক স্থানে। পূর্বপুরুষ সত্ত্বগুণের অধিকারী ছিল বলেই ব্রাহ্মণ বর্ণের ঠাকুর পদবী লাভ করেছিল। তার পূর্বপূরুষ ব্রাহ্মণ ছিলেন। পূজা পার্বন পৌরহিত্য করার কারণে এখনো গোপালগঞ্জের সাতপার এলাকায় ঠাকুর পদবী রয়েছে।

অন্যদিকে শোনা যায় জগৎ রায় ঠাকুর ছিলেন খ্যাতিমান গায়ক। তার গানের সুর ছিল খুব চড়া। সেই চড়া সুর থেকে চড়া গাইন নামে পরিচিতি পান তিনি।

পবিত্র গীতায় শ্রীকৃষ্ণ যেমন বলেছেন গুণ ও কর্মের বিভাগ অনুসারে চারটি বর্ণ সৃষ্টি করিয়াছি। সেভাবে কীর্তনের স্কেল চড়া সুর থেকে চড়া/গাইন/কীর্ত্তনীয়া আবার হালদারী করে ব্রিটিশরা হালদার টাইটেল দেয়, আবার শাসন করতে গিয়ে কোথাও ক্ষত্রিয় রূপে সেন/চৌধুরী/সরদার/রায়। চিকিৎসা করতে গিয়ে বৈদ্য। গৃহ নির্মাণের কাজ করতে গিয়ে ঘরামী/মণ্ডল। যারা খুব বিশ্বস্ত ছিল মোক্তার বা উকিল হিসাবে কাজ করতেন তাদের বিশ্বাস বলা হতো। অর্থাৎ পেশাগত কারণে আমাদের পূর্ব পুরুষের পদবী পরিবর্তন হয়েছে। পেশা পরিবর্ত্তিত পদবী চড়া/গাইন/হালদার/চৌধুরী/কীর্ত্তনীয়া/সেন/ঠাকুর/সরদার/রায়/বৈদ্য/ঘরামী/মন্ডল প্রভৃতি।

দ্যা নিউজ সম্পাদক ও প্রকাশক এবং আনন্দলোক সেবা সোসাইটির চেয়ারম্যান প্রমিথিয়াস চৌধুরী আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, আত্মনির্ভলশীল ও মানসিকভাবে শক্তিশালী হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার চেষ্টা হওয়া উচিত একমাত্র লক্ষ্য। আমরা নিজেরা ভালো থাকবো বংশের অন্যকেও ভালো থাকতে সহযোগিতা করবো। একে অপরের সহযোগিতায় মনস্থির রেখে কাজ করে যাওয়া। অবশ্যই যেকোন সমস্যার সমাধান নিজ পরিবার/বাড়ি/বংশের মধ্যে বংশীয়দের বাইরে নয়।

তিনি আরও বলেন, নিজেদের ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য ছাত্র যুবকযুবতীদের নিয়ে একটি ছাত্রযুব সমবায় সমিতি আর বংশীয় সকল পেশাজীবি ব্যক্তিদের নিয়ে আরেকটি পেশাজীবী সমবায় সমিতি গঠন করবেন। এই পেশাজীবী সমবায় সমিতি ছাত্র যুবদের পেশাজীবি হতে সহযোগিতা ও সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে।  স্বেচ্ছাশ্রম ব্যক্তিদের নিয়ে আরেকটি স্বেচ্ছাসেবক কমিটি তৈরি করতে হবে। ছাত্র যুব সমিতি, পেশাজীবী সমিতি, স্বেচ্ছাসেবক কমিটির মাধ্যমেই তৈরি হবে পরিচালনা কমিটি। এই কমিটির মেয়াদ হবে এক বছর।

তিনি আরও বলেন, আজকের এই মহা সম্মেলনে সবাই প্রতিজ্ঞা করি যে, আমরা নিজেরা ভালো থাকবো বংশের অন্যকেও ভালো থাকতে সহযোগিতা করবো। তাহলেই এই সম্মেলন করা সার্থক হবে নয়তো অর্থ আর সময় অপচয় ছাড়া আরকিছুই হবে না।https://thenewse.com/বংশীয়-মহাসম্মেলন/

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।