বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পর্কের পরিধি আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর একটি বিশেষ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেন। জাইকার প্রধান কার্যালয়ের হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট বিভাগের পরিচালক Mochizuki Hiroshi প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়ন, দক্ষতা বিকাশ, কারিগরি শিক্ষা, ভাষা শিক্ষা এবং গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায় জাপানের সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
কারিকুলামে তৃতীয় ভাষা যুক্ত করার উদ্যোগ
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা ও শিল্পখাতের মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব কমানোর লক্ষ্যে নতুন কারিকুলাম নিয়ে কাজ করছে সরকার। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মদক্ষতা বাড়াতে একাধিক ভাষা শেখার সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ পঞ্চগড় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত
সরকার কারিকুলামে তৃতীয় ভাষা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে জাপানি ভাষার গুরুত্ব রয়েছে। ভাষা শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের এসব উদ্যোগে জাইকা গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শিক্ষার মানোন্নয়নে নানা উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় শিক্ষার মান বাড়ানোকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ, মিড-ডে মিল চালুসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার প্রয়োজন রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ সিঙ্গাপুরের আদলে বদলাচ্ছে আরজেএসসি, ঘরে বসেই কোম্পানি নিবন্ধন
কারিগরি শিক্ষা আধুনিকায়ন, গবেষণা এবং উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাইকার সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত করার সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জাপানি ভাষা ও কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব
সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করতে ভাষা শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে: শিক্ষামন্ত্রী
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তৃতীয় ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি বিশেষভাবে জাপানি ভাষা এবং কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। কারিগরি শিক্ষা উন্নয়ন ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে জাপানের সহযোগিতা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, একই বিভাগের উপদেষ্টা Usagawa Tsuyoshi, সিনিয়র প্রতিনিধি Morikawa Yuko, ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার Alimul Hasan এবং জাইকার কারিগরি শিক্ষা উপদেষ্টা দলের প্রধান Saeri Muto উপস্থিত ছিলেন।





