কুনমিং-এ ইউনান প্রদেশ ও বাংলাদেশের যৌথ বাণিজ্যিক মতবিনিময় অনুষ্ঠিত

ইউনান প্রদেশ ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে চীনের কুনমিং-এ Kunming Young Entrepreneurs Association (KYEA) এবং কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের যৌথ উদ্যোগে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ Kunming Lingyun Law Firm-এর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি স্থায়ী বাণিজ্যিক যোগাযোগ চ্যানেল প্রতিষ্ঠা এবং শিল্প-সমন্বয় ও প্রকল্প বিনিয়োগের বাস্তবমুখী পথ উন্মোচন করা।

অংশগ্রহণকারী ও শুরুর কার্যক্রম

অনুষ্ঠানে KYEA-এর পক্ষে সভাপতি OUYANG Jingang, সহ-সভাপতি SUN Wenjie, মহাসচিব LI Yi সহ National High-Tech Enterprises, Yunnan Province’s Top 100 Enterprises এবং “Specialized, Refined, Distinctive and Innovative Little Giant” শ্রেণিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের অর্ধশতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন। বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন কনস্যুলেট জেনারেলের প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) রিদওয়ানুর রহমান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অংশগ্রহণকারীরা Yunnan Lingyun Law Firm পরিদর্শন করেন এবং পরবর্তীতে KYEA-এর সার্বিক কার্যক্রম ও উন্নয়ন সম্পর্কিত একটি উপস্থাপন পর্যবেক্ষণ করেন।

বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও সুযোগ-সুবিধা

প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) “Bangladesh as an Investment Destination” শীর্ষক এক বিস্তৃত উপস্থাপনায় বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ কর্মশক্তি এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারের প্রণোদনাগুলো ব্যাখ্যা করেন, যার মধ্যে রয়েছে:

* শতভাগ মালিকানা, মুনাফা ও মূলধন প্রত্যাবাসনের সুবিধা

* কর অবকাশ (Tax Holiday)

* মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে বিশেষ ছাড়

তিনি চট্টগ্রামের আনোয়ারায় স্থাপিত Chinese Economic and Industrial Zone (CEIZ)-এর সুবিধা সহ তৈরি পোশাক ও বস্ত্র, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ওষুধ শিল্প, চামড়া, হালকা প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিনিয়োগের বিশাল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন।

প্রশ্নোত্তর পর্ব ও খাতভিত্তিক আগ্রহ

১. স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাত

চীনা উদ্যোক্তাদের প্রশ্নের জবাবে প্রথম সচিব বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগে হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেবা এবং চিকিৎসা-সরঞ্জাম উৎপাদনে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। চীনা প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের সমন্বয়ে পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারিত্বের সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

২. মৎস্য খাত (কাঁকড়া ও কুচিয়া রপ্তানি)

চীনের বাজারে বাংলাদেশী কাঁকড়া (crab) ও কুচিয়ার (eel) ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে কাঁকড়া ও কুচিয়া চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কোল্ড-চেইন অবকাঠামো গড়ে তুলতে ব্যাপক বিনিয়োগ সুযোগ রয়েছে।

৩. কৃষি ও ফল বাজার সম্প্রসারণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল ও পেয়ারা চীনে রপ্তানির জন্য বাজার-প্রবেশ (Market Access) প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের কৃষিপণ্য বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) চীনা উদ্যোক্তাদের সরেজমিনে বিনিয়োগের সুযোগ পরিদর্শনের জন্য বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রন জানান এবং কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন। অনুষ্ঠানের শেষ অংশে উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ নিজ নিজ ব্যবসা ও যৌথ সহযোগিতার আগ্রহ ব্যক্ত করেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।