প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তনে ১৮০ দিনের অগ্রগতি তুলে ধরলেন প্রতিমন্ত্রী

প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তনে ১৮০ দিনের অগ্রগতি তুলে ধরলেন প্রতিমন্ত্রী
দৃশ্যমান পরিবর্তনের আশা

 সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পরিকল্পনা, বিভিন্ন উদ্যোগের পাইলটিং ও বাস্তবায়নে প্রাথমিক শিক্ষা খাত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দৃশ্যমান ও গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা উপপরিচালকের কার্যালয় ‘প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে কারিকুলাম সংস্কার, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, নতুন শিক্ষক নীতিমালা, মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া শিক্ষা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।

আরও পড়ুনঃ আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্সের ভেল্যু বৈশ্বিক পর্যায়ে নিতে চাই -তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

বিদ্যালয় পরিচালনা ও জবাবদিহিতা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাঙ্গনে কার্যকর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে সিলেট বিভাগে ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণ কর্মশালা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য ছয় বিভাগেও একই ধরনের কর্মশালা আয়োজন করা হবে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো শিশুকে যেন শ্রেণিকক্ষের বাইরে থাকতে না হয়, সে লক্ষ্য সামনে রেখে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য পুষ্টিকর মিড-ডে মিল, বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ চলছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন সম্পর্কে ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু নতুন ভবন নির্মাণ নয়। প্রতিটি বিদ্যালয়কে নিরাপদ, আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশে রূপান্তর করে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে প্রতিটি এলাকার মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ও আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে: পরিবেশমন্ত্রী

আগামী ছয় মাসের কর্মপরিকল্পনাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে যেসব অঙ্গীকার রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এজন্য মাঠ প্রশাসনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সক্ষমতা নিশ্চিত করা হবে।

প্রাথমিক শিক্ষার ভবিষ্যৎ কারিকুলাম নিয়েও নতুন পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। ববি হাজ্জাজ বলেন, ইংরেজি লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে স্পিকিং টেস্ট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের তথ্য ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা কার্যক্রমকে প্রযুক্তিনির্ভর করতে একটি সমন্বিত আইটি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। এর আওতায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য পৃথক ইউনিক আইডি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়নের জন্য স্কুল ভবনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় ওয়াশ ব্লক স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

স্কুল ফিডিং কর্মসূচি নিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, কর্মসূচিতে কিছু বাস্তব সমস্যা রয়েছে এবং সরকার সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করছে। তবে এসব সমস্যার তুলনায় কর্মসূচি নিয়ে অপপ্রচার বেশি হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঠেকাতে স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানুষ সাধারণত মসজিদকে নিজেদের প্রতিষ্ঠান মনে করে, কিন্তু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে অনেকের মধ্যে সেই মালিকানাবোধ তৈরি হয়নি। অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে বিদ্যালয়কে সবার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

ময়মনসিংহ বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপপরিচালকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদ এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের পরিচালক। এ ছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলার পিটিআই সুপার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা কর্মশালায় অংশ নেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।