কৃষিজমির উর্বর মাটি সংরক্ষণ, বায়ুদূষণ ও কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং টেকসই নির্মাণব্যবস্থা গড়ে তুলতে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারি নির্মাণকাজেও পর্যায়ক্রমে পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
রোববার (১৬ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বৃদ্ধি এবং সরকারি নির্মাণকাজে ব্লকের ব্যবহার নিয়ে অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, নির্মাণ খাতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারি প্রকৌশল সংস্থা, নির্মাণসামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
এদিন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী ও ইটশিল্প নিয়ে পৃথক দুটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রথম সভায় সরকারি ভবন নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কারকাজে পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার নিশ্চিত করার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তর, প্রকৌশল সংস্থা, পরিবেশ অধিদপ্তর, হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কংক্রিট ব্লক প্রস্তুতকারক মালিক সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আরও পড়ুনঃ আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্সের ভেল্যু বৈশ্বিক পর্যায়ে নিতে চাই -তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
সভায় পরিবেশবান্ধব ব্লকের উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন নীতিগত সহায়তার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও কর যৌক্তিকীকরণ, উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট কমানো, কাঁচামাল কেনার সময় পরিশোধ করা ভ্যাটে রেয়াত এবং শিল্প ও নির্মাণবর্জ্য পুনর্ব্যবহারে প্রণোদনার বিষয়গুলো উঠে আসে।
এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ব্লকের গুণগত মান নিশ্চিত করার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পাশাপাশি গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ অন্যান্য সরকারি প্রকৌশল সংস্থাকে মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিবীক্ষণ কার্যক্রমে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রকৌশলী, কারিগরি কর্মী ও রাজমিস্ত্রিদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আরও পড়ুনঃ প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তনে ১৮০ দিনের অগ্রগতি তুলে ধরলেন প্রতিমন্ত্রী
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি বিনিয়োগ ও শিল্পের বিকাশকে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে। এ জন্য ইটভাটার মালিকদের দ্রুত পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির দিকে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দিনের দ্বিতীয় সভায় ইটশিল্পের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে খাতসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়। সেখানে ইটভাটার পরিবেশগত প্রভাব, আইন ও পরিবেশগত মান অনুসরণ, কাঁচামাল ও জ্বালানির ব্যবহার এবং আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তিতে রূপান্তরের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
প্রচলিত ইটভাটার দূষণ কমানো এবং অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। একই সঙ্গে ইট উৎপাদনে কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দূষণ নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তির অটোমেটিক ইট উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব ব্লকের উৎপাদন বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করা হয়। ইটশিল্পের প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।
মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জলবায়ু পরিবর্তন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ কংক্রিট ব্লক প্রস্তুতকারক মালিক সমিতি, বাংলাদেশ ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ অটো ব্রিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।



