প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা

প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার রহস্যের জট খোলেনি ৭দিনেও। গ্রেফতায় করা সম্ভব হয়নি মূল অপরাধীদের। অজ্ঞাত আসামিদের নামে মামলা হওয়ায় ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় নিহতের পরিবার।

মাদারীপুরের কালকিনিতে এনায়েতনগর ইউনিয়নের মাঝেরকান্দি গ্রামের সৌদিআরব প্রবাসী সোহাগ হাওলাদারের সাথে চাচা শাহাদাৎ হাওলাদারের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান।

স্বজনদের অভিযোগ, এরই জেরে গত বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রী পাখি আক্তারকে একা পেয়ে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ শাহাদাৎ ও তার লোকজন। পরে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। এই ঘটনায় নিহতের মা শারমিন বেগম বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে গত বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) কালকিনি থানায় এজাহার দায়ের করেন। কিন্তু মামলায় রেকর্ডের সময় অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়। এতে ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় দেখা দিয়েছে। ঘটনায় গ্রেফতার আতঙ্কে এলাকাবাসী। তারা দাবী করেন, হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি অপরাধীরে আইনের আওতায় আনার।

এদিকে অভিযুক্ত শাহাদাৎ হাওলাদারকে বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী পলি আক্তারের দাবি, হত্যাকান্ডের ঘটনার সাথে জড়িত নন তারা। এই ঘটনার বিচারও দাবি করেন তিনি। ক্লুলেজ হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে জানিয়ে পুলিশ বলছে, কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। এদিকে স্ত্রীর মৃত্যুর খবরে সৌদিআরব থেকে গত শুক্রবার দেশে ছুটে আসেন সোহাগ হাওলাদার। নিহত পাখি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার খিদিরপাড়া এলাকার দোলোয়ার হোসেন মল্লিকের মেয়ে। বিয়ের পর পরই সৌদি চলে যান সোহাগ। সংসারে ৪ বছরের এক ছেলে রয়েছে তার।

পাখির মা শারমিন বেগম বলেন, ‘আমাকে থানা পুলিশ একাধিক কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলেছে। আমি না বুঝেই স্বাক্ষর করে দিয়েছি। মেয়ে মারা যাবার পর পাগল অবস্থায় ছিলাম। লাশ দাফন নিয়েও চিন্তায় ছিলাম। আমি যাদের নাম পুলিশের কাছে বলেছিলাম, তাদের নাম বাদ দিয়ে পুলিশ অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা রেকর্ড করেছে। তাহলে আমি কি এখন আমার মেয়ে হত্যার বিচার পাবো না, আর মূল অপরাধীদের ছড়াছোঁয়ার বাইরে থাকবে, প্রশাসনের কাছে জানতে চাই।’

পাখির স্বামী সোহাগ হাওলাদার বলেন, ‘আমার শ^াশুরির কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করেছে পুলিশ। আমার শ^াশুরি কিছুই বোঝেনি। আর আমি দেশেও ছিলাম না। এই অজ্ঞাতদের আসামি করার কারণে এখন ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আমরা চাই প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার করে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা হোক।’

অভিযুক্ত শাহাদাৎ হাওলাদারের স্ত্রী পলি আক্তার বলেন, ‘আমাদের সাথে জমিজমা নিয়ে বিরোধ থাকলেও এই হত্যার ঘটনায় আমি বা আমার বাবারবাড়ির লোকজন জড়িত নই। আমাদেরকে ফাঁসানোর জন্য পাখির স্বামী ও তার বাবারবাড়ির লোকজন মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে। আমরাও চাই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিচার হোক।’

মাদারীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘প্রবাসীর স্ত্রী হত্যাকান্ড একটি ক্লুলেজ ঘটনা। এই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও কাজ করছে। জেলা পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারাও মনিটরিং করছে। শিগগিরই মূল অপরাধীরা ধরা পড়বে। এছাড়া জহির নাম একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এই ঘটনায় নিরহ কাউকে হয়রানী করা হচ্ছে না।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।