নৌবাহিনীর সদস্যকে প্রেমের অপরাধে গণধোলাই

যশোর প্রতিনিধি: যশোরে তবিবর রহমান নামে নৌবাহিনীর এক সদস্যকে ধরে পুলিশে দিয়েছেন তিন কলেজছাত্রী। রোববার বিকেলে শহরের ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজের সামনে থেকে তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দেওয়া হয়। ওই তিন ছাত্রীর সঙ্গে একযোগে প্রেম করতেন তবিবর। তবিবর যশোরের মণিরামপুর উপজেলার নেহালপুর গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে।

কোতয়ালী থানার এএসআই জাহিদ হোসেন জানান, তবিবর রহমান একইসঙ্গে তিন তরুণীর সঙ্গে প্রেম করতেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় প্রেমিকারা জোট বাঁধেন এবং স্থানীয় কয়েক যুবককে জানিয়ে রাখেন। রোববার দুপুরে তবিবর প্রেমিকাদের মধ্যে একজনের সঙ্গে দেখা করতে যশোরে আসেন। তবিবর আসামাত্রই ওত পেতে থাকা লোকজন তাকে পিটুনি দেয়।পরে তবিবর আবদুর রাজ্জাক কলেজের অধ্যক্ষের কাছে সহযোগিতা চাইলে তিনি পুলিশে খবর দেন। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

তবিবর জানিয়েছেন, তিনি পাঁচবছর নৌবাহিনীর ল্যান্স কর্পোরাল হিসাবে চাকরি করছেন। বর্তমানে তিনি খুলনায় কর্মরত আছেন। ফেইসবুকের মাধ্যমে শহরের বারান্দীপাড়া এলাকার এক তরুণীর সঙ্গে তার বন্ধুত্ব হয়। তবিবর তাকে বিয়ের প্রস্তাবও দেন। কিন্তু প্রেমিকারা নানা ছলচাতুরির আশ্রয় নেন। পরে ওই তরুণীর এক খালাতো বোনের সঙ্গেও তবিবরের পরিচয় হয়। তাকেও তবিবর বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু তিনি বিবাহিত বলে নতুন করে বিয়েতে রাজি হননি। একই সূত্রে ওই দুই তরুণীর আরেক বান্ধবীর সঙ্গে পরিচয় হয় তবিবরের। রোববার ওই তিন তরুণী পরিকল্পিতভাবে তাকে শহরে ডেকে নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, ‘আমি একজনের সঙ্গে প্রেম করেছি। তাকে বিয়েরও প্রস্তাব দিয়েছি। কিন্তু তিনজনে একত্রিত হয়ে আমাকে ফাঁসিয়েছেন।’ ওই তরুণীর কারো সঙ্গে তিনি প্রতারণা করেননি বলে দাবি করেন তবিবর। তরুণী তিনজনের মধ্যে দু’জন যশোর সরকারি মহিলা কলেজে এবং একজন আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজে লেখাপাড়া করেন।

কোতয়ালী থানার ডিউটি অফিসার এসআই বিপ্লব হোসেন জানিয়েছেন, তিন তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে তবিবরকে থানায় নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী করণীয় বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।