দেবকূলের ইঞ্জিনিয়ার বিশ্বকর্মার পূজা আজ। জেনে নেই বিশেষ কর্ম সম্ভার

দেবকূলের ইঞ্জিনিয়ার বিশ্বকর্মার পূজা আজ। জেনে নেই বিশেষ কর্ম সম্ভার

আজ ১৭ সেপ্টেম্বর, ৩১ ভাদ্র শুক্রবার শ্রী শ্রী বিশ্বকর্মা পূজা। দেবগুরু বৃহস্পতির ভগিনী যোগসিদ্ধা এবং অষ্টম বসু প্রভাস পুত্র বিশ্বকর্মা। বৈদিক দেব বিশ্বকর্মা দেবশিল্পী। স্থাপত্য, শিল্প, সৃষ্টি এবং  বিভিন্ন নির্মাণই তাঁর কর্ম। হিন্দুশাস্ত্র মতে তিথি এবং পূজার সময় নির্ধারণ হয় চন্দ্রের গতির উপর নির্ভর করে। বিশ্বকর্মা পূজা নির্ধারণ হয় সূর্যের গতি নির্ধারণ করে। সূর্য রাশি পরিবর্তন করে সিংহ রাশি থেকে কন্যা রাশিতে গমনের দিন হয় বিশ্বকর্মা পূজা। আগের দিন বৃহস্পতিবার রাত ১টা ১৪ মিনিটে রবি (সূর্য)  রাশি পরিবর্তন করে সিংহ রাশি থেকে কন্যা রাশিতে গমন করছে।

বিশ্বকর্মা পুজোর সহজ মন্ত্র –

দংশপালঃ মহাবীরঃ সুচিত্রঃ কর্মকারকঃ।

বিশ্বকৃৎ বিশ্বধৃকতঞ্চ বাসনামানো দণ্ডধৃক।

ওঁ বিশ্বকর্মণে নমঃ।

দেবশিল্পী মহাভাগ দেবা-নাং কার্যসাধক।

কর্মন্নমস্ তুভ্যং সর্বাভীষ্টপ্রদায়।।

সাধারণত বিশ্বকর্মা পুজো আসা মানেই, মা দূর্গার আগমনের আভাস পাওয়া। ঋগ্বেদ অনুযায়ী তাঁকে পরম সত্যের প্রতিরূপ এবং সৃষ্টিশক্তির দেবতা হিসাবে গণ্য করা হয়। রামায়ণের দেব বিশ্বকর্মার উল্লেখ পাওয়া যায়। ভাদ্রমাসের সংক্রান্তির দিন বাংলার ঘরে ঘরে পূজিত হন দেব বিশ্বকর্মা। সাধারণত, কারিগর দেবতা হিসাবেই পরিচিত দেব বিশ্বকর্মা। দেব বিশ্বকর্মাকে আবার দেবকূলের ইঞ্জিনিয়ারও বলা হয়।

সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর, কলি – এই চার যুগ ধরে ছড়িয়ে রয়েছে বিশ্বকর্মার অমর কীর্তি। শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা পুজোর (Vishwakarma Puja 2021) আগে আজ আমরা আলোচনা করব পৃথিবীর প্রথম ইঞ্জিনিয়ার বিশ্বকর্মার কয়েকটি অমর সৃষ্টির বিষয়ে।

সত্যযুগে বিশ্বকর্মা তৈরি করেছিলেন স্বর্গলোক। এই প্রাসাদ থেকেই দেবরাজ ইন্দ্র মর্ত্যলোক শাসন করতেন। ত্রেতা যুগে বিশ্বকর্মা সৃষ্টি করেন সোনার লঙ্কা। দ্বাপর যুগে সৃষ্টি করেন দ্বারকা। কলিযুগে বিশ্বকর্মার অমর সৃষ্টি হস্তিনাপুর ও ইন্দ্রপ্রস্থ।

সোনার লঙ্কাঃ হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী ত্রেতা যুগে রাবণ রাজার রাজধানী ছিল সোনার লঙ্কা। পার্বতীর সঙ্গে বিয়ের পর মহাদেব প্রাসাদ নির্মাণের ভার দেন বিশ্বকর্মাকে। স্বর্ণপ্রাসাদ নির্মাণ করেন বিশ্বকর্মা। গৃহপ্রবেশের পুজোর জন্য রাবণ রাজাকে আমন্ত্রণ জানান মহাদেব। পুজোর পর দক্ষিণা স্বরূপ মহাদেবের কাছে স্বর্ণলঙ্কা চান রাবণ। রাবণের হাতে স্বর্ণলঙ্কা তুলে দেন মহাদেব। সেই থেকেই রাবণের রাজধানী স্বর্ণলঙ্কা।

দ্বারকাঃ দ্বাপর যুগে শ্রীকৃষ্ণের রাজধানী দ্বারকা বিশ্বকর্মার অমর সৃষ্টি। মহাভারতে দ্বারকাই কৃষ্ণের কর্মভূমি হিসেবে উল্লিখিত। হিন্দুদের অন্যতম দর্শনীয় ও পূজনীয় শহর দ্বারকা।

বিশ্বকর্মা বিশ্বভুবন নির্মাণ করেন। বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র, শিব এর ত্রিশূল, কুবের এর অস্ত্র, ইন্দ্রের বজ্র, কার্তিকের শক্তি প্রভৃতি তিনি তৈরি করেছেন। শ্রীক্ষেত্রর প্রসিদ্ধ জগন্নাথ মূর্তিও তিনি নির্মাণ করেছেন। বিশ্বকর্মা যে শুধু কর্মে সুদক্ষ তা নয়, তিনি বেশ কিছু গ্রন্থও লিখেছেন বলে কথিত আছে। বিশ্বকর্মার রচিত স্থাপত্যশিল্প বিষয়ক গ্রন্থটির নাম “বাস্তুশাস্ত্রম”। পুরাণে উল্লেখ আছে, চারটি বেদের মতো চারটি উপবেদও আছে। উপবেদগুলি হল আয়ুর্বেদ, ধনুর্বেদ, গান্ধর্ববেদ এবং স্থাপত্যবেদ। এই উপবেদ স্থাপত্যবিদ্যা বা বাস্তুবিদ্যার রচয়িতা হলেন বিশ্বকর্মা। মনে করা হয়, তিনিই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রধান বাস্তুকার।

কোনো পুরান মতে তাঁর জন্ম অষ্টবসুর অন্যতম প্রভাসের ঔরসে দেবগুরু বৃহস্পতির ভগিনী বরবর্ণিনীর গর্ভে। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরান মতে প্রজাপতি ব্রহ্মার নাভিদেশ থেকে বিশ্বকর্মার উৎপত্তি বলে লেখা আছে। বেদে এই বিশ্বকর্মাকে অজাত পুরুষ বা সনাতন পুরুষ রূপে বর্ণনা করা হয়েছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।