প্রকৃতি, স্রষ্টার আইন এবং জনগণের সম্মিলিত অনুভূতি নিজস্ব গতিতে এগিয়ে চলে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর চক্রান্ত বা নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে কোনো বিষয়কে আড়াল করতে পারলেও দীর্ঘদিন মানুষের চিন্তা ও আকাঙ্ক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, কোনো সময়কে নিষিদ্ধ করে চিরদিনের জন্য বন্দী করে রাখা যায় না। জনগণের সম্মিলিত অনুভূতিকে সাময়িকভাবে বিভ্রান্ত করা গেলেও সব মানুষকে সব সময় একইভাবে বিভ্রান্ত রাখা সম্ভব নয়।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে সাংবাদিক ইমরুল কায়েসের লেখা ‘তারেক রহমান: নিষিদ্ধ সময়ে নিষিদ্ধ প্রচার’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘মাতৃভাষা প্রকাশ’ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।
নিষেধাজ্ঞার পরিণতি নিয়ে সতর্কতা
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, কোনো কিছু নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা থেকে এক ধরনের ঔদ্ধত্যের জন্ম হতে পারে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফল সব সময় কাঙ্ক্ষিত হয় না; অনেক ক্ষেত্রে এর বিপরীত প্রতিক্রিয়া আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
যারা কোনো ব্যক্তি, মত বা রাজনৈতিক চেতনাকে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করেন, তাঁদের মনস্তত্ত্ব বোঝার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় জনগণের মধ্যে যে স্বতঃস্ফূর্ততা ও আবেগ তৈরি হয়, সেটিও বোঝা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী শক্তি নিজেদের কর্মকাণ্ডকে আদর্শ ও নানা যুক্তির মাধ্যমে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষাকে দীর্ঘ সময় দমন করে রাখা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, জনগণের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও চেতনাকে জোর করে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত উল্টো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান
বক্তব্যে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের কথাও বলেন।
তথ্যমন্ত্রীর ভাষ্য, ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়ার পরিণতিতে ক্ষমতাসীনদের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। তিনি রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রসঙ্গ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সংগ্রাম, ঝুঁকি ও ত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশের জন্য তাঁর নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ঝুঁকি এবং পরিবারকে নিয়ে দীর্ঘদিনের ত্যাগ জনগণের মধ্যে গণতন্ত্রের প্রতি আগ্রহ ও অনুপ্রেরণা বাড়িয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান: নিষিদ্ধ সময়ে নিষিদ্ধ প্রচার’ বইয়ের বিভিন্ন নিবন্ধের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নতুন করে সামনে আসবে।
তাঁর মতে, বইটি শুধু তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে লেখা কোনো রাজনৈতিক আখ্যান নয়; এর পরিসর আরও বিস্তৃত। এতে একটি বিশেষ রাজনৈতিক ‘মনোজগৎ’ নিয়েও আলোচনা রয়েছে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ফ্যাসিবাদী মনোজগৎ কোনো সমাজ বা রাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদে কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। ইতিহাস ও রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে এই বিষয়গুলো অনুধাবন করা জরুরি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বইটি পাঠকদের মধ্যে ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক বিবেক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ও অ্যাডভোকেট এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব।
বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আবদুল হাই সিদ্দিক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এ ছাড়া বক্তব্য দেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নু এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।




