× Banner
সর্বশেষ
তরুণ উদ্ভাবকরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ – প্রধানমন্ত্রী বস্তুনিষ্ঠতা ও সত্য উদঘাটনই সঠিক সাংবাদিকতার মূলভিত্তি: তথ্যমন্ত্রী পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন আদিবাসী নারীরা, মজুরিতে বৈষম্য ঢাকার চক্রাকার নৌপথে চালু হবে ওয়াটার বাস – নৌ পরিবহনমন্ত্রী ফ্যাসিস্টদের ফটোকপি বিএনপির মধ্যে দেখতে পাচ্ছি – জামায়াত আমির আগস্টে নিষিদ্ধ ঘোষিত গোষ্ঠীর তৎপরতা; সতর্ক থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ-মিয়ানমার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ জোরদারে বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠক জনবান্ধব ও পেশাদার পুলিশ বাহিনী গড়ার অঙ্গীকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ডেভিড ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর ২০ বছর ধরে মৃত শিক্ষকের বেতন উত্তোলন, অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে

ত্রাণের জন্য পানিবন্দি মানুষের হাহাকার

admin
হালনাগাদ: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

বিশেষ প্রতিনিধিঃ বন্যায় পানিবন্দি মানুষের কষ্ট বেড়েই চলেছে। নদ-নদীর পানি কিছুটা কমলেও বন্যা কবলিত অনেক জেলায় দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় সরকারি ত্রাণ পৌঁছাতে না পারায় খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। অনাহারে থাকতে হচ্ছে অনেক বানভাসী মানুষকে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত রোগ। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

আমাদের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, নদ-নদীর পানি কিছুটা কমলেও কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা ত্রাণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার নয়টি উপজেলার ৬৮টি ইউনিয়নের চার শতাধিক গ্রামের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বাড়ছে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকট। গবাদি পশুর খাদ্য সংকটও প্রকট আকার ধারন করেছে। ছড়িয়ে পড়েছে পানিবাহিত রোগ। অপ্রতুল ত্রাণ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন জনপ্রতিনিধিরা। দুসপ্তাহেরও বেশি সময় পানিবন্দী থাকলেও অনেকেই এখনও কোন ত্রাণ সহায়তা পাননি। ফলে দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে তাদের জীবন। দুর্গতদের দেখার জন্য আজ কুড়িগ্রামে আসছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।

জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন জানান, এ পর্যন্ত ৫০০ মেট্রিকটন ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলায় ২১ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রে ১৪ সেন্টিমিটার ও দুধকুমোরে ১৪ সেন্টিমিটার পানি কমেছে।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধা সদর উপজেলার গোদারহাট নামক এলাকায় আজ ভোরে ঘাঘট নদীর শহর রক্ষা বাধের পূর্বাংশের প্রায় ৬০ ফুট এলাকা ভেঙ্গে গেছে। এতে নতুন করে খোলাহাটি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে। শহর রক্ষা বাধে ভাঙ্গন দেখা দেয়ায় শহরের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। খোলাহাটি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কাজী ইব্রাহীম খলিল উলফাত বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলায় বাধ ভেঙ্গে গেছে।

লালমনিরহাট সংবাদদাতা জানান, তিস্তা নদীর পানি নেমে গেলেও লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার কারণে মানুষ দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে। বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। বর্তমানে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাব প্রকট আকার ধারন করেছে। অনেকে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, যমুনার তীরবর্তী টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর ও গোপালপুর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি ৪ সেন্টিমিটার পানি কমে বিপদসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ওইসব এলাকায় পানিবাহিত রোগ দেখা দিয়েছে। জেলার পাঁচটি উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ এখনো পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে পানি কমতে শুরু করলেও মানুষের কষ্ট কমেনি। বন্যা দুর্গতদের মাঝে পর্যাপ্ত সাহায্য পৌঁছায়নি। বিশেষ করে ভুয়াপুর উপজেলার গাবসারা, নিকরাইল, অর্জুনা, গোবিন্দাসী গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল, হেমনগর ইউনিয়নের পানিবন্দী মানুষ এখনো দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি সংকট দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার অধিকাংশ নিচু এলাকা এখনো পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে।

নওগাঁ রানীনগর ও আত্রাই উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। নওগাঁ-নাটোর মহাসড়কের আত্রাই উপজেলার মিরাপুরে বাঁধ কাম সড়ক ভেঙে যাওয়ায় আত্রাই উপজেলার ৮টি ও রানীনগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ১২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় দেড় লাখ মানুষ। তলিয়ে যাচ্ছে এই দুই উপজেলার নতুন নতুন এলাকা। গত ১৬ দিনের বন্যায় দুই উপজেলার ২৫ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে প্রায় ১২ হাজার পুকুরের মাছ। বন্ধ হয়ে গেছে দুই উপজেলার ৬৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। খাদ্য সংকটে ভুগছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থরা। এ পর্যন্ত রানীনগর ও আত্রাইয়ের বন্যা কবলিতদের মাঝে ১১০ মেট্রিকটন জিআর চাল ও নগদ ১ লাখ ১১০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে বলে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা জানিয়েছে।

সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি কমতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পানি ৪ সেন্টিমিটার কমে এখন বিপদসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার বেলকুচি, উল্লাপাড়া, কাজিপুর, শাহজাদপুর, চৌহালি ও সদর এলাকার নিম্নাঞ্চল এবং চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দীর্ঘদিন পানিবন্দী থাকায় খাদ্য ও পানি সংকটের পাশাপাশি জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।  অনেক দুর্গত এলাকায় এখন পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছায়নি। কিছু কিছু স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন। এখন পর্যন্ত জেলার সাতটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া শতাধিক বিদ্যালয় পানিতে তলিয়ে যাওয়াই সেগুলো ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..