তিন লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিবেদকঃ জাতীয় সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উত্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী। বাজেটের আকার তিন লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি ৯৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৮ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্যের পাশাপাশি জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ।

বিকেল সাড়ে ৩টায় চিরচেনা কালো ব্যাগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সংসদ অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এটি সরকারের চলতি মেয়াদে তৃতীয় আর অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল মাল আব্দুল মুহিতের টানা অষ্টম বাজেট।

৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরে তিন লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। এতে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৮ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার দিকনির্দেশনা রয়েছে।

বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার ১ লাখ ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছর মূসককেই ধরা হচ্ছে আয়ের মূল উৎস। এরপর আয়কর। বাজেটে ব্যক্তি করমুক্ত আয়ের সীমা আগের মতো আড়াই লাখ টাকাই থাকছে।

বাজেট ঘাটতি থাকছে ৯৭ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা বরাবরের মতোই জিডিপির ৫ শতাংশের কম। অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে এ ঘাটতি মেটানো হবে। ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেয়া হবে ৩৯ হাজার কোটি ও সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে আসবে ২০ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া বৈদেশিক ও অন্যান্য উৎস থেকে আসবে ৩৩ হাজার কোটি টাকার মতো।

রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা এর মধ্যে রাজস্ব বোর্ড আদায় করবে ২ লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। ফলে এবছর বাজেট ঘাটতি থাকছে ৯৭ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩৮ হাজার ৯৩৮ কোটি ব্যাংক খাত থেকে টাকা ঋণ নেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে বিভিন্ন খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ধরা হয়েছ ২২ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা। জিডিপি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির সীমা নির্ধারণ হয়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ।

ভ্যাট থেকে আয় ধরা হয়েছে ৭২ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা। আয়কর থেকে আয় ধরা হয়েছে ৭১ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। সম্পূরক শুল্ক থেকে আয় ৩০ হাজার ৭৫ কোটি টাকা

বেশি ব্যয় হবে বেতন ভাতায় ৫০ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সর্বোচ্চ ৫২ হাজার ৯২০ কোটি বরাদ্দ করা হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১৯ হাজার ২৯১ কোটি টাকা ও প্রতিরক্ষা খাতে ২২ হাজার ১৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।