তারাগঞ্জে উৎকোচ না দেয়ায় নোটিশ ছাড়াই এমএইচভি’কে অব্যহতি দেয়ার অভিযোগ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য ইনচার্জের বিরুদ্ধে

তারাগঞ্জে উৎকোচ না দেয়ায় নোটিশ ছাড়াই এমএইচভি’কে অব্যহতি দেয়ার অভিযোগ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য ইনচার্জের বিরুদ্ধে

দিপক রায়, রংপুর প্রতিনিধি : তারাগঞ্জে স্বাস্থ্য বিভাগের দুই কর্মকর্তার দাবিকৃত উৎকোচ না দেয়ায় কোন নোটিশ না দিয়েই অব্যহতি দিয়ে একজন এমএইচভি (মালটিপারপাস হেল্থ ভলান্টিয়ার)কে তার পদে যোগদান করতে দেয়া হয়নি বলে লিখিত অভিযোগে জানা গেছে।

অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা হলেন রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোস্তফা জামান চৌধুরী (সদ্য স্ট্যান্ডরিলিজ প্রাপ্ত) ও উপজেলা স্বাস্থ্য ইনচার্জ (পরিদর্শক) মোঃ আ. সালাম । উৎকোচ গ্রহন সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে ৩১-১২-২০২০ইং তারিখে একজন সিএইচসিপি রংপুর জেলা সিভিল সার্জন বরাবরে লিখিত অভিযোগ করায় দুই কর্মকর্তার অনিয়ম দুর্নীতি তদন্তের জন্য সিভিল সার্জন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই সাথে স্বাস্থ্য বিভাগ তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা মোস্তাফা জামান চৌধুরীকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বদলী করেন। অন্যদিকে অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত স্বাস্থ্য পরিদর্শক এখনও বহাল তবিয়তে থাকায়, তদন্ত কাজে ব্যঘাত ঘটাতে পারে বলে অভিযোগকারীরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

উপজেলার এলাহীর বাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের ব্লক নম্বর ৭ এর এমএইচভি মোছাঃ তাছলিমা বেগম গত ১০ জানুয়ারী রংপুর সিভিল সার্জন বরাবরে দেয়া আরও একটি লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, তিনি গত ২০২০ সালের ২৭ এপ্রিল এমএইচভি পদে কর্মরত অবস্থায় পারিবারিক এক মিথ্যা ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার হন। ৩ মাস ২৭ দিন পর জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি তার বকেয়া প্রনোদনা ভাতা ও পুনঃরায় যোগদান করার বিষয়ে এলাহীর বাজার সিসিতে (কমিউনিটি ক্লিনিক) কর্মরত সিএইচসিপি মোছাঃ মারজেনা খাতুনের সাথে যোগাযোগ করেন। কিন্তু মারজেনা খাতুন তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য ইনচার্জ মোঃ আ. সালাম ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।

তাছলিমা বেগম স্বাস্থ্য ইনচার্জ আ. সালামের সাথে যোগাযোগ করলে সালাম তাকে বিভিন্ন অজুহাতে ঘোরানোর এক পর্যায়ে পুনঃরায় যোগদানের ব্যাপারে তাছলিমার কাছে ১০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবী করেন। আ. সালামের উৎকোচ দাবীর বিষয়টি তাছলিমা সিএইচসিপি ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোস্তফা জামান চৌধুরীকে জানালে তিনি উৎকোচ গ্রহনের বিষয়ে অভিযোগ আমলে না নিয়ে ফৌজদারী মামলার অজুহাতে সালামের যোগসাজসে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাও তাকে ঘোরাতে থাকে।

তাছলিমা বেগম সিএইচসিপির মাধ্যমে জানতে পারেন তার এমএইচভি পদে নতুন একজনকে যোগদান করানো হয়েছে। কিন্তু কোন প্রকার নোটিশ বা এমএইচভি পদ থেকে অব্যাহতি বা অপসারনের পত্র না দিয়েই ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর কিভাবে তার স্থানে নতুন এমএইচভি নিয়োগ দেয়া হয় তা বোধগম্য হয়নি বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।

তিনি তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, এমএইচভি অব্যাহতি বা অপসারনের শর্তসমূহ ৭ নম্বর কলামে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে “কেউ যদি ফৌজদারি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয় কিংবা প্রমাণিত হয়” তাহলে তাহার এমএইচভি পদ হারাবে। কিন্তু তাছলিমার বিরুদ্ধে এপর্যন্ত ফৌজদারী মামলার সাজা কিংবা দোষী প্রমাণিত হয়নি।

তাই তাছলিমা বেগম এ বিষয়ে রংপুর সিভিল সার্জন বরাবরে লিখিত অভিযোগ প্রদান করে তদন্ত স্বাপেক্ষে অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে তার এমএইচভি পদে পুনঃরায় যোগদান করার অনুমতি দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য স্বাস্থ্য পরিদর্শক আব্দুস ছালাম দীর্ঘদিন থেকে তারাগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত থাকায় এখানে নানা দুর্নীতি ও অনিয়ম অব্যাহত রেখে কর্মকর্তা কর্মচারীদের নানাভাবে হয়রানী করে আসছে। অনেকে তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
লেখক / প্রতিবেদক

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।