ঢাকার নিরাপত্তা জোরদার: ‘র’ প্রধানের সফর ও বিস্ফোরক উদ্ধারের পর দেশজুড়ে বিশেষ সতর্কতা

ঢাকার নিরাপত্তা জোরদার: ‘র’ প্রধানের সফর ও বিস্ফোরক উদ্ধারের পর দেশজুড়ে বিশেষ সতর্কতা
ঢাকায় কঠোর নিরাপত্তা

সন্ত্রাসবাদ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সম্প্রতি ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (R&AW)-এর প্রধান পরাগ জৈনের ঢাকা সফর এবং এর পরপরই সাভারসহ বিভিন্ন স্থানে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

সাভারে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন আইইডি উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়

গতকাল সাভারের একটি মাদ্রাসার মাঠ থেকে ড্রামে লুকানো একটি প্রেসার কুকার বোমা উদ্ধার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। পরবর্তীতে বোম ডিসপোজাল স্কোয়াডের সদস্যরা ঘটনাস্থলেই বিস্ফোরকটি নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করেন।

সিটিটিসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, “উদ্ধারকৃত বিস্ফোরকটি একটি শক্তিশালী আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস)। জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনায় এটি তৈরি করা হয়েছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে।”

ভারতীয় গোয়েন্দা প্রধানের সফর ও আঞ্চলিক তথ্য বিনিময়

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, পরাগ জৈনের দুই দিনব্যাপী ঢাকা সফরে মূলত আন্তঃসীমান্ত উগ্রবাদ, আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতা এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান প্রাধান্য পেয়েছে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) মনিটরিং টিমের সাম্প্রতিক এক সতর্কবার্তার ওপর ভিত্তি করে দুই দেশের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্তারা সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় যৌথ কৌশলের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে।

জাতিসংঘের সতর্কবার্তা ও গোয়েন্দা নজরদারি

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর ভারতীয় উপমহাদেশীয় শাখা (AQIS) এবং নব্য জেএমবি নতুন করে সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। এই প্রতিবেদনের পরই বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উগ্রবাদীদের ঘাঁটি ও গোপন আস্তানার সন্ধানে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে।

জনমনে প্রতিক্রিয়া ও বিশেষজ্ঞ অভিমত

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, উগ্রবাদ দমন কোনো একক রাষ্ট্রের চ্যালেঞ্জ নয়, এটি একটি আঞ্চলিক সমস্যা। ভারতের মতো প্রতিবেশী দেশের সাথে রিয়েল-টাইম ইন্টেলিজেন্স শেয়ারিং বাংলাদেশ ও পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি।

একই সাথে রাজনৈতিক উস্কানি ও সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচার এড়িয়ে আইনশৃঙ্খলার স্বাভাবিক গতি বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন তারা। পুলিশ ও সিটিটিসি জানিয়েছে, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের বিশেষ ইউনিটগুলো সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।