কুসুমকান্তি বিশ্বাস, কোলকাতাঃ আবার জম্মু ও কাশ্মিরের পুঞ্চ এলাকায় ভারতীয় সৈন্যদের ওপর গুলি চালিয়েছে পাকিস্তানের সৈন্যরা। এতে কারো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এ দিকে ফের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের আশঙ্কায় পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারে সামরিক প্রস্তুতি বিপুল পরিমাণে বাড়াতে শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। অন্য দিকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ভারতীয় বিমাবাহিনীর প্রধান বলেছেন, সশস্ত্রবাহিনী সাব-কনভেনশনাল হুমকির উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত। খবর এনডিটিভি, দি হিন্দু ও আনন্দবাজারের।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ভারতের পুলিশ সূত্র এনডিটিভিকে জানায়, ভোর ৫টায় এ গুলিবিনিময় শুরু হয়ে প্রায় ২ ঘণ্টা স্থায়ী হয়। পাকিস্তানি সৈন্যরা মেন্ধার সেক্টরে বেশ কিছু ভারতীয় অবস্থান ও লাইন অব কন্ট্রোল সংলগ্ন গ্রামগুলোর ওপর গুলি বর্ষণ করতে থাকে।
ভারতীয় বাহিনী এ হামলার জবাবে পাকিস্তানি সৈন্যদের ওপর ছোট অস্ত্র ও মর্টারের গোলা বর্ষণ করে।
পাকিস্তান গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে জম্মু ও কাশ্মিরের লাইন অব কন্ট্রোল বরাবর কমপক্ষে ২৫ বার ২০০৩ সালে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। ২৯ সেপ্টেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনী আজাদ কাশ্মিরে কথিত সন্ত্রাসী আস্তানায় সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর দাবি করে। পাকিস্তান প্রথম থেকেই সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কথা অস্বীকার করে বলে আসছে যে, ওই দিন কেবল সীমান্তে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে, যা অনেকটা নিয়মিত ব্যাপার। জম্মু অঞ্চলে লাইন অব কন্ট্রোল বরাবর বড় ধরনের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে ৩, ৪ ও ৫ অক্টোবর।
৫ অক্টোবর পাকিস্তানি সৈন্যরা তিন দফা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে পুঞ্চ ও রাজৌরি এলাকায় ভারতীয় ঘাঁটি ও বেসামরিক এলাকায় ব্যাপক গুলি চালায় এবং মর্টার শেল নিক্ষেপ করে। ভারতও এর পাল্টা জবাব দেয়।
গত বছরও পাকিস্তান ৪০৫টি সীমান্তের অপর দিকে গুলি চালায়। এতে ১৬ জন বেসামরিক লোক নিহত ও ৭১ জন আহত হয়।
ভারতীয় সশস্ত্রবাহিনী সাব-কনভেনশনাল হুমকির উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত : ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান অরূপ রাহা জোর দিয়ে বলেছেন যে, সশস্ত্রবাহিনী সাব-কনভেনশনাল হুমকি কিংবা দেশের প্রতি অন্য যেকোনো ধরনের হুমকির উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত।
২৯ সেপ্টেম্বর লাইন অব কন্ট্রোলের ওপারে ভারতের কথিত সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর থেকে পাকিস্তানের ঘন ঘন যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং কাশ্মিরে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে তিনি এ মন্তব্য করলেন।
এয়ার চিফ মার্শাল রাহা হিন্দন বিমান ঘাঁটিতে পাকিস্তানে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ব্যাপারে মন্তব্য এড়িয়ে গিয়ে বলেন, বিষয়টি নিয়ে দেশে এত বেশি আলোচনা হয়েছে যে, সমাজের প্রত্যেক শ্রেণীর মানুষ এ ব্যাপারে মন্তব্য করছেন। সশস্ত্রবাহিনী কাজ করে দেখাতে চায়, যা দেশবাসী প্রত্যাশা করেন। আমরা এ ব্যাপারে কোনো কথা বলব না। আমরা কেবল ফল দিয়ে যাব।
দিল্লি থেকে ৩০ কিমি. দূরে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদ জেলায় বিমানবাহিনীর ৮৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
‘পাওয়ার টু পানিশ’ শিরোনামে গতকাল চালু ভারতীয় বিমানবাহিনীর (আইএএফ) সরকারি ফেসবুক মেসেজে তিনি লিখেছেন, আইএএফ বিশ্বের সবচেয়ে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও হাতিয়ার ব্যবহার করছে। এবং বিমাসেনারা নিরলসভাবে আমাদের আকাশসীমা পাহারা দিয়ে রেখেছে।
এয়ার চিফ মার্শাল রাহা বলেন, ‘হুমকি মোকাবেলায় আমরা প্রশিক্ষণ দান অব্যাহত রেখেছি। আমরা যেকোনো চ্যালেঞ্জের যথোপযুক্ত জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। পাকিস্তান থেকে ক্রমবর্ধমান হুমকিসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সশস্ত্রবাহিনী যেকোনো সাব-কনভেনশনাল হুমকির জবাব দিতে যথেষ্ট সক্ষম।
সাব-কনভেনশনাল হুমকি বলতে বুঝানো হয়েছে, পাকিস্তান সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে যে প্রক্সি যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে সেটাকে।
ফের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক? শঙ্কায় সেনা বাড়াচ্ছে পাকিস্তান : নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারে সামরিক প্রস্তুতি বিপুল পরিমাণে বাড়াতে শুরু করল পাকিস্তান। জম্মু এলাকার উল্টো দিকেই পাকিস্তান সৈন্য সমাগম বাড়াতে শুরু করেছে বলে খবর। নিয়ন্ত্রণ রেখার লাগোয়া গ্রামগুলো থেকে বাসিন্দাদের আগেই সরানো হয়েছিল। এবার আরো কিছুটা ভেতরের দিকে অবস্থিত গ্রামগুলোও খালি করে দেয়া হয়েছে। কাশ্মির উপত্যকায় অবশ্য পাকিস্তানের প্রস্তুতি তার তুলনায় কম।
উরি হামলার পর জম্মু-কাশ্মিরে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর বিপুল সৈন্য সমাবেশ করেছে ভারত। সামরিক প্রস্তুতি ব্যাপক বাড়ানো হয়েছে। পাকিস্তানও পাল্টা সামরিক প্রস্তুতি বাড়িয়েছে নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারে। তা সত্ত্বেও পাক অধিকৃত কাশ্মিরে ঢুকে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করতে অসুবিধা হয়নি ভারতীয় বাহিনীর। কিন্তু সার্জিক্যাল স্ট্রাইক যে এলাকায় হয়েছে, সেই এলাকা কাশ্মির উপত্যকার মধ্যে পড়ে। জম্মু অঞ্চলের যে অংশ নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারে রয়েছে, সেখানে কিন্তু কোনো সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হয়নি। জম্মু দিয়ে অনুপ্রবেশের জন্য নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারের লঞ্চ প্যাডগুলোতে শতাধিক জঙ্গি জড়ো হয়েছে বলেও খবর পেয়েছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। তার পরই জম্মুতে নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারে পাকসেনা দ্রুত সামরিক প্রস্তুতি বাড়াতে শুরু করায় সীমান্তে ফের বেড়েছে উত্তেজনা।
জম্মুর সীমান্তে আচমকা সামরিক প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে কেন পাকিস্তান? ভারতীয় গোয়েন্দারা বলছেন, ফের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ভয় পাচ্ছে পাকিস্তান।
জম্মুতে অনুপ্রবেশের জন্য নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারে প্রায় ১০০ জঙ্গির জড়ো হওয়ার খবর ভারতীয় গোয়েন্দারা যে জেনে গিয়েছেন, সে কথা পাকিস্তানও জানে। তাই এবার জম্মু এলাকায় নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারত জঙ্গিদের লঞ্চ প্যাড ভাঙার চেষ্টা করতে পারে বলে পাকসেনার আশঙ্কা। সেই কারণেই আচমকা সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানো শুরু হয়েছে বলে খবর।



