ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার চান্দেরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত পিলার ৩৩৩/এমপির কাছাকাছি এলাকায় বিএসএফের গুলিতে তিন বাংলাদেশি আহত হন। পরে তাদের ভারতের কালিয়াগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়।
নিহত দুই যুবকের পরিচয়
নিহতরা হলেন পীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের ওয়াজ উদ্দীনের ছেলে আসাদুজ্জামান (৩৩) এবং উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে মোস্তাকিম (৩২)।
গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন একই গ্রামের মুনষা নারায়ণের ছেলে শ্রী উদা। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
কালিয়াগঞ্জ হাসপাতালে দুইজনের মৃত্যু
স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোরে দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) পীরগঞ্জের চান্দেরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় ভারতের ৬৩ চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহলদল গুলি চালায়।
এতে তিন বাংলাদেশি গুরুতর আহত হন। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে ভারতের কালিয়াগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসাদুজ্জামান ও মোস্তাকিমের মৃত্যু হয়।
তাদের মরদেহ বর্তমানে ওই হাসপাতালেই রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করছে বিএসএফ
বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহাজাহান আলী জানান, নিহত দুই যুবকই স্থানীয় বাসিন্দা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তাদের মৃত্যুর খবর স্থানীয়রা জানতে পারেন।
তিনি বলেন, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজিবিকে জানানোর প্রক্রিয়া চলছে।
অন্যদিকে ৪২ বিজিবির সিইও আবদুল্লাহ আল মঈন জানান, বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন।
তবে বিএসএফের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি বলে জানান তিনি। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও বিস্তারিত তথ্য জানতে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
ঘটনাটি নিয়ে সীমান্ত এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ঘটনার বিস্তারিত জানার বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।



