চট্টগ্রামে মাদক সিন্ডিকেটের প্রদান ২২৪ জন

রাজিব শর্মা, চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকাসহ দেশের ১১ জেলার ৯৯ রুট দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রনে রয়েছে বিশাল একটি সিন্ডিকেট। মাদকের শীর্ষ চোরাচালানির সংখ্যায় তারা ২২৪ জন। আর চট্টগ্রামে মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে মাত্র ৫২ জন। সম্প্রতি সরকারিভাবে দেশের মাদক চোরাচালানিদের একটি তালিকা করা হয়েছে। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিজিবি, কোস্টগার্ড এবং চারটি গোয়েন্দা সংস্থার বিভাগ ওয়ারি করা এ তালিকায় ২২৪ জন মাদক চোরাকারবারির নাম উঠে এসেছে। প্রতিটি বিভাগের অধীন বিভিন্ন জেলার শীর্ষ চোরাচালানিদের নিয়ে এ তালিকা করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রিপোর্ট সমন্বয় করার পর মাদক বিষয়ে আরো কিছু তথ্য বেরিয়ে এসেছে।জানা গেছে, বিভ্ন্নি সংস্থার করা এ সমন্বয় রিপোর্টে সারাদেশে শীর্ষ চোরাচালানি রয়েছে ২২৪ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৫২জন, ঢাকায় ২২ জন, রাজশাহীতে ৯৬ জন, খুলনায় ৪৬ জন, বরিশালে ৪ জন এবং সিলেট বিভাগে ৪ জন শীর্ষ চোরাচালানির নাম রয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর মধ্যে কুমিল্লায় সবচেয়ে বেশি চোরাচালানি রয়েছে। এ জেলায় শীর্ষ চোরাচালানির সংখ্যা ২০ জন। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মাদক ধরা পড়ে। বাকিটা দেশের বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণী পেশার মানুষ সেবন করে থাকে।
সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. বাবুল আক্তার বলেন, ব্যস্ততার কারণে পুলিশ মাদক বিরোধী অভিযানে হয়তো সেভাবে সময় দিতে পারছে না। তবে নিয়মিত অভিযানে মাদক ধরা পড়ছে। খুচরা বিক্রেতাসহ মাঝেমধ্যে সিন্ডিকেটের অনেককেও আটক করা হচ্ছে।গোয়েন্দা সূত্র মতে, দেশের ১১টি জেলার ৯৯টি রুট মাদক পাচারে ব্যবহৃত হচ্ছে। সাতক্ষীরার কলারোয়া, মাদ্রা, সোনাবাড়ী, বৈকারী, ঘোনা, বকছরা, বাঁশদহ, পরানদহ এবং পলাশপুর রুট; যশোরের গাতিপাড়া, দৌলতপুর, তেরঘর, পটুখালী, গোগা, সাদিপুর, রঘুনাথপুর ও গীরা রুট; জয়পুরহাটের পাঁচবিবি, চেচড়া, আটাপাড়া, বাগজানা, কল্যাণপুর, ভীমপুর, রামচন্দ্রপুর, রতনপুর, সোনাতলা, চাঁনপুর, ঘুনপাড়া ও সোনাপুর রুট; দিনাজপুর জেলার নওয়াপাড়া, হাড়িপুকুর, নন্দীপুর, গোপালপুর, চেচড়া, কয়া রুট; ময়মনসিংহ জেলার কামারখালী, বিজয়পুর, এরশাদ বাজার, তেলতলি, আনসারি বাজার, বারমারি বাজার, কড়ইতলি ও মহিষ খোলা রুট; নেত্রকোনা জেলার বিজয়পুর, মধুপাড়া, ভবানীপুর, নলুয়াপাড়া রুট; সিলেট জেলার জৈন্তা, লালখান, শ্রীপুর, তামাবিল, সোনারহাট, বিছানাকান্দি, কালাইবুক ও নোয়াকোটা; হবিগঞ্জ জেলার বলা, গোমরতলা, টেকেরঘাট, রেমা, সাতছড়ি, মসকিনেরঘাট, ভুলনা চিমটিবিল, মাধবপুর, হরষপুর, ধর্মগড়, কমনপুর ও তেলিয়াপাড়া; কুমিল্লা জেলার বিবিরবাজার, কনরাউশতলা, শাহপুর, ইটালা, বুড়িচং, ছড়ানল, জঙ্গলবাড়ি, ধোপাখিলা, আনন্দপুর, ব্রাহ্মণপাড়া, শশীদল ও দক্ষিণ তেতাভূমি; ফেনী জেলার পশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া ও বিলুনিয়া এবং কক্সবাজার জেলার টেকনাফ, মদমিয়া, শাহপরীর দ্বীপ এবং হোয়াইকং রুট ব্যবহার করে চোরাচালানিরা বাংলাদেশে মাদকদ্রব্য নিয়ে আসছে।সূত্র আরো জানায়, এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ২০টি ফেনসিডিল কারখানায় উৎপাদিত মাদক সীমান্তের সাতটি রুট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। কলকাতার বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত এই ২০টি কারখানার ৩০৩টি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে এআর আবদালির কারখানায় ৮ ইউনিট, নিহাল আহমেদের কারখানায় ১৭ ইউনিট, আরিফ মোহাম্মদের কারখানায় ৬, লিন কিউ চিউর কারখানায় ১৫, মো. আব্বাসের কারখানায় ৮, সুকুমার মান্নার ৭, মকসুদ এমডির ২৫, রামগোপাল মৃধার ২৭, ভবেশ মল্লিকের ৪৪, ইজাজ মোহাম্মদের ১৪, ফাহাদ আবেদীনের ১২, তারাপদ আচার্যের ৩০, ওসমানের ৫, টালওয়ার (পাঞ্জাবি) ১০, লেংড়া জমির ৬, চেন খইর ২০, আদিত্ত মিত্তালের ১১ এবং আইডিয়াল ট্যানারিতে ৪টি ইউনিট রয়েছে। এসব কারখানায় উৎপাদিত ফেনসিডিল ১০-২০ লিটারের প্লাস্টিকের জারে করে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসা হয়। বিভিন্ন ধরনের বোতল আসে আলাদাভাবে। সীমান্ত এলাকায় ছোট ছোট কারখানায় ফেনসিডিল বোতলজাত করার পর এতে লেবেল লাগানো হয়। এরপর ত্রিপুরা জেলার আড়াইটিলা এবং বিশ্বরামগঞ্জ এলাকা, দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলুনিয়ার কাছে শান্তির বাজার, আগরতলার ইন্দ্রনগর কালিবাড়ী ও দর্গাউ চৌমুহনী, মেঘালয়ের বড়নাগাপাড়াসহ সাতটি পথ দিয়ে এসব মাদকদ্রব্য বাংলাদেশে আনা হয়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।