ভারত বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়ার থেকে তেল কিনতে রাজি হয়ে যাওযায়, কার্যত গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রাশিয়ার কোনও বিরোধী রইল না। কারণ, ভারত এবং চিনের পরামর্শে চলে দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা এবং মালদ্বীপ। চিন রয়েছে রাশিয়ার পাশেই। পাকিস্তানের টালমাটাল পরিস্থিতি। পাকিস্তানের একাংশের ভরসাও চিন। অন্য দেশ মায়ানমারও চিন এবং রাশিয়ার পক্ষে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার জেরে উদ্ভূত মানবিক সংকট নিরসনে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইউক্রেনের পক্ষে প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছে বাংলাদেশ। যদিও বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ভারতপন্থী। তারাও রাশিয়ার পক্ষেই আছে। এই অবস্থায় আরব দুনিয়ার দিকে নজর দিয়েছেন ল্যাভরভ। তিনি মস্কোয় আরব স্টেটস লিগের মহাসচিব আবুল গেটের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। রাশিয়ার সঙ্গে আরব দুনিয়ার সুসম্পর্কের নজির হিসেবে আরব দুনিয়ার কায়দায় আহমেদ আবুল গেটকে স্বাগত জানিয়েছেন ল্যাভরভ।
আন্তর্জাতিক দুনিয়ার কাছে রাশিয়াকে ছোট করতে সাধারণ নাগরিকদের হত্যা করে রাস্তায় ফেলে গিয়েছে ইউক্রেন সেনা। পাশাপাশি চলছে জেলেনস্কির কূটনৈতিক যুদ্ধ। রাশিয়ার বিরুদ্ধে গণহত্যার প্রমাণ আন্তর্জাতিক দুনিয়ার কাছে দাখিলের জন্য যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করেছেন জেলেনস্কি।
গতকাল সোমবার তিনি নিজে বুচা এলাকার রাস্তাঘাট পরিদর্শন করেছেন। এই বুচা এলাকাতেই রাস্তার ওপর পাওযা গিয়েছে ইউক্রেনের সাধারণ নাগরকিদের দেহগুলো। দেরি করেনি রাশিয়াও। পালটা বিবৃতি জারি করে ছত্রে ছত্রে সমালোচনায় বোঝানোর চেষ্টা করেছে, এটা আসলে জেলেনস্কিরই কীর্তি।
রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, তুরস্কে সমঝোতার পরের দিন, ৩০ মার্চ রুশ সেনা বুচা ছেড়ে চলে গেছে। তার পর, ৩১ মার্চ বুচা শহরের মেয়র আনাতোলি ফ্রেডরিক ভিডিওবার্তায় সেকথা জানিয়েছেন। তিনি কাউকে হাত বেঁধে রাস্তায় গুলিবিদ্ধ করা হয়েছে বলে সেদিন অভিযোগও করেননি।
এসব যুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় আমেরিকার নেতৃত্বাধীন জোটকে চাপে ফেলতে পালটা জোট তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে ক্রেমলিন। তারই অঙ্গ হিসেবে ভারতে এসেছিলেন রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।





