× Banner
সর্বশেষ
সততা চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন পাইলট প্রকল্পে ৯৯ হাজার শিক্ষার্থী পাবেন বিনামূল্যের পাটের স্কুল ব্যাগ সরকারের ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিমার্জনের উদ্যোগ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগে এনজিওদের এগিয়ে আসার আহ্বান জ্বালানিমন্ত্রীর ২০২৭ সালের হজে ব্যাকঅ্যাপ আবাসন ১% রাখার অনুরোধ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে – প্রধানমন্ত্রী পাইকগাছায় সুন্দরবনের প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ প্রতিরোধে অভিজ্ঞতা বিনিময় বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত  কোটচাঁদপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে স্কুলছাত্রীকে হত্যা, ৪ বছর পর যুবকের মৃত্যুদণ্ড দেশে হামের উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু

নিজে গুলি খেয়ে নেতাজীকে বাঁচিয়েছিলেন কর্নেল নিজামুদ্দিন, মোদি তাঁর পা ছুঁয়ে প্রণাম

Brinda Chowdhury
হালনাগাদ: রবিবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২০

সময়টা ১৯৪৪। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা, দেহরক্ষী, গাড়ির চালক কর্ণেল নিজামুদ্দিন। কর্ণেল নিজামুদ্দিনের আসল নাম ছিল সইফুদ্দিন। নিজামুদ্দিন নামটাও নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর দেওয়া। নামের আগে কর্নেল থাকলেও তিনি সেনাবাহিনীর কেউ নন। ভারতের স্বাধীনতার অন্যতম পুরোধা নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোসের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক ছিলেন তিনি। আসল নাম সইফুদ্দিন। স্নেহবশত নেতাজি তাকে কর্নেল নামে ডাকতেন।

মায়ানমারের জঙ্গলে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর সাথে চা খাচ্ছিলেন। হঠাৎ ধেয়ে এল গুলি নেতাজীকে লক্ষ্য করে। ঝাঁপিয়ে পড়ে নেতাজী সরিয়ে দিলেন নিজামুদ্দিন। কিন্তু নিজেকে পারলেন না সরাতে। নেতাজীকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া গুলি এফোঁড় ওফোঁড় করে দিল নিজামুদ্দিনের শরীর।

আজমগড়ের মুবারকপুরের ঢাকুয়া গ্রামে ১৯০১ সালে জন্মগ্রহণ করেন নিজামুদ্দিন ওরফে সইফুদ্দিন। বাবা ইমান আলি সিঙ্গাপুরে একটি ক্যান্টিন চালাতেন। গ্রাম ছেড়ে তিনি বাবার কাছে চলে যান। পরে সেখানেই তিনি আজাদ হিন্দ ফৌজে যোগদান করেন। ১৯৪৩-৪৫ সাল পর্যন্ত তিনি আজাদ হিন্দ ফৌজে ছিলেন। ধীরে ধীরে নেতাজীর ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। তাকে প্রথমে দেহরক্ষী পরে গাড়ির চালক হিসাবে নিযুক্ত করেন নেতাজী। তাকে কর্ণেল নিজামুদ্দিন নাম দেন নেতাজী। কর্ণেল নিজামুদ্দিন নিজে গাড়ি চালিয়ে নেতাজীকে পৌছে দিয়ে এসেছিলেন মায়ানমারের বেতাই নদীর তীরে। সেখান থেকে সাবমেরিনে চেপে জাপান চলে যান নেতাজী। যাওয়ার সময় নেতাজী রেজিমেন্টের দায়িত্ব দিয়ে যান কর্ণেল নিজামুদ্দিনের ওপর। সেই দায়িত্ব নিষ্ঠাভরে পালন করেছিলেন কর্ণেল নিজামুদ্দিন।

 নিজামুদ্দিন ও মোদী

কখনও নেতাজীর গাড়ির চালক হয়েছেন, তো কখনও প্রয়োজনে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামে যাঁরা নিজেদের জীবন বাজি রেখেছিলেন, অথচ ইতিহাসে যাঁদের কথা তেমন করে লেখা থাকে না, তিনিও তাঁদের মধ্যে একজন।

তখনকার সময়ে প্রত্যেকের কার্বনকপি বা ডুপ্লিকেট অনেকেই থাকতেন । নেতাজীর ছিলেন ১৬ জন। তার মত দেখতে এবং হুবহু তার মতই সেজে ১৬ জন ঘুরে বেড়াতেন। আসল নেতাজী কে সেটা বোঝার উপায় ছিল না। নেতাজী বা তাদের মত বিপ্লবীরা যে পথ দিয়ে জেতেন তার আগে তাদের নকলরা সেই রাস্তা দিয়ে কয়েকবার জেতেন বিপদের সম্ভবনা আঁচ করতে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে বারাণসীতে ভোটের প্রচারে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজামুদ্দিনের সঙ্গে দেখা করেন ও তার পা ছুঁয়ে প্রণাম করেছিলেন। নেতাজির মৃত্যু আজও রহস্যাবৃত। তবে কর্নেলের মতো কয়েকজনের স্মৃতিতে অমলিন ছিলেন তিনি। সদা জাগ্রত ছিল নেতাজির আদর্শ। যা তিনি বরাবর ছড়িয়ে দিয়েছেন তার উত্তরসূরিদের মধ্যেও। ২০১৭ সালে মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১১৬ বছর। তার প্রয়াণ যেন তাই সেই দীর্ঘ পরম্পরাতেই পূর্ণচ্ছেদ।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..