কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় লালমনিরহাটে গৃহবধূকে নির্যাতন

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মসুর দৈলজোর গ্রামে ছবিতা রানী নামের এক সংখ্যালঘু গৃহবধূ কু-প্রস্তাবে রাজি  না হওয়ায় তাকেসহ তার পরিবারের তিন সদস্যকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। ছবিতা ওই গ্রামের সুদাংশু রায়ের স্ত্রী । বর্তমানে ওই গৃহবধূসহ তার শ্বশুর ধরনী কান্ত কর্মন ও শ্বাশুড়ী তরুবালা আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্লে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ ঘটনায় সোমবার রাতে আদিতমারী থানায় ৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন ওই  ভুক্তভোগী সংখ্যালঘু নারী। আসামীরা হলেন- একই গ্রামের মৃত আব্দুল সামাদের ছেলে মো. চাঁন মিয়া(৪৮), তার স্ত্রী আসমা বেগম(৪০) ভাই মো. বাবুল মিয়া(৩৫), তার স্ত্রী সাহিদা বেগম(২৭) , এনামুল হকের স্ত্রী মোছা. সাহানা বেগম(২৬) ও বড় ভাই মো. সুরুজ মিয়া (৫৮)।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ছবিতা রানী দারিদ্রতার কারনে বেশ কিছু দিন আগে চাঁদ মিয়ার জমিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এ সুযোগে চাঁদ মিয়া তাকে কু-প্রস্তাব দেয়। এ প্রস্তাবে রাজি না হলে প্রায় ৭-৮ মাস যাবত ওই প্রভাশালী ব্যাক্তি তাকে বিভিন্ন ভাবে উত্ত্যক্ত অব্যাহত রাখে। এ বিষয়টি চাঁদ মিয়ার বড় ভাই সরুজ মিয়াকে নালিশ করলে তিনি বিচার না করে উল্টো ওই গৃহবধূকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয় এবং তার উপর ক্ষিপ্ত হয়।

একপর্যায়ে চাঁদ মিয়া ছবিতা রানী ও তার মেয়ে জবা রানী রায় (২০) এর অশ্লীল ছবি কম্পিউটারের মাধ্যমে প্রিন্ট করে নিজ গ্রামে ছড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে গত রবিবার বিকেলে চাঁদ মিয়া গৃহবধূর মেয়েসহ তার অশ্লীল ছবি নিয়ে বাড়িতে এসে উক্ত ছবি হাতে দিয়ে বলে, ‘তুই যদি আমার সাথে সর্ম্পক না করিস, তবে তোর ছবি এবং তোর মেয়ের ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিব’।

এসময় উভয়ে তর্কের একপর্যায়ে চাঁদসহ তার লোকজন লাঠি দিয়ে এলোপাথারি মারপিট করতে থাকে গৃহবধূকে। তার চিৎকারের তার শ্বশুর ধরনী কান্ত কর্মন ও শাশুড়ী তরুবালা পূত্রবধূকে রক্ষায় এগিয়ে আসলে তাদের একই কায়দায় মারপিট করা হয়। এতে তিনজন গুরুত্বর আহত হলে এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে আদিতমারী স্বাস্থ্যকমপ্লেক্লে ভর্তি করে। বর্তমানে তারা আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্লে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আদিতমারী থানার ওসি মাসুদ রানা জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে

Share this news

admin
Reporter

admin

Click the reporter name to read more stories.

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।