কলকাতায় বাংলাদেশি পর্যটকদের সুরক্ষায় কাজ করবে ইন্দো-বাংলা প্রেসক্লাব

কলকাতায় বাংলাদেশি পর্যটকদের সুরক্ষায় কাজ করবে ইন্দো-বাংলা প্রেসক্লাব

কলকাতার মিনি বাংলাদেশ খ্যাত নিউমার্কেটের হোটেল মালিকদের সংগঠন মারক্যুইস স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশি পর্যটকদের পরিষেবা দেবে ‘ইন্দো-বাংলা প্রেসক্লাব’। বাংলাদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে ‘মারক্যুইস স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের’ সঙ্গে একযোগে পথচলা শুরু করল কলকাতার ‘ইন্দো-বাংলা প্রেসক্লাব’।

এ উপলক্ষে রোববার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে মারকুইস স্ট্রিট এলাকায় একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন- ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য মনোতোষ সরকার, মনোতোষ সাহা, কামরুদ্দিন মালিক, শ্যামলী যাত্রী পরিবহনের কর্ণধার অবনী ঘোষ, কলকাতা পুরসভার ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর প্রতিনিধি সন্দীপন সাহা, ইন্দো-বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি কিংশুক চক্রবর্তী, সম্পাদক শুভজিৎ পূততুণ্ড, মুখপাত্র ও কোষাধ্যক্ষ দীপক দেবনাথ, আহ্বায়ক ভাস্কর সরদার, বিশ্বজিৎ দাস, বিক্রম লাহা, ধৃমল দত্তসহ ক্লাবের সদস্যরা।

অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য মনোতোষ সাহা বলেন, এখানে আমরা বাংলাদেশি পর্যটকদের বেশি অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি। তাই তাদের কথা মাথায় রেখেই এ বছরই প্রথম রঙিন আলো দিয়ে সাজানো হয়েছে। পাশাপাশি পর্যটক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ৩২টি সিসিটিভি লাগানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইন্দো-বাংলা প্রেসক্লাবকে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে পেয়ে আমরা খুব গর্বিত। ভবিষ্যতেও এই ক্লাবের কাছ থেকে আরও বেশি করে সহযোগিতা আশা করি।

ইন্দো-বাংলা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক ভাস্কর সরদার বলেন, বাংলাদেশি পর্যটকরা আমাদের কাছে অতিথির মতো। তাই তাদের নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। তারা কলকাতায় এলেই এই নিউমার্কেটকে বেছে নেয়, তার কারণ রাতে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে নিশ্চিন্তে ঘোরাফেরা করতে পারেন।

স্থানীয় কাউন্সিলর সন্দীপন সাহা বলেন, বাংলাদেশি পর্যটকরা কলকাতায় এলে নিউমার্কেটের বেছে নেয়, তার কারণ এখানে তারা বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, সুরক্ষিত বোধ করেন। আর সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমাদের নৈতিক দায়িত্ব তাদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া। আর সেই দায়িত্বই পালন করে আসছে এখানকার স্থানীয় মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।

প্রসঙ্গত, কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলার নিউমার্কেট চত্বর। কেনাকাটা থেকে শুরু করে খাওয়া-দাওয়া, সাজসজ্জা সবকিছুই পাওয়া যায় এক ছাতার তলায়। স্বাভাবিকভাবেই বিদেশিদের কাছে বিশেষ করে বাংলাদেশিদের কাছে অত্যন্ত পছন্দের জায়গা এই নিউমার্কেট। অনেকের কাছেই আবার মিনি বাংলাদেশ বলেও পরিচিত।

বাংলাদেশিরা কলকাতায় পা রেখেই এই নিউমার্কেটের মারক্যুইস স্ট্রিট, কিডস স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, টটি লেনসহ বিভিন্ন জায়গায় হোটেলে অবস্থান করেন। সম্প্রতি নিউমার্কেট এলাকায় রাতের দিকে ছিনতাই, বহিরাগতের উপস্থিতিসহ কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনার অভিযোগ ওঠে। যার শিকার হয়েছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা। বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেন কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশন কর্মকর্তারাও। পর্যটকদের নিরাপত্তায় দ্রুত পদক্ষেপও নেয় নিউমার্কেটের হোটেল মালিকদের সংগঠন। এ সময় তাদের পাশে দাঁড়াল ইন্দো-বাংলা প্রেসক্লাব।

জানা যায়, পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে নিউমার্কেট এলাকায় বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। পাশাপাশি অ্যাসোসিয়েশন একটি হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশি পর্যটকরা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলেই যেকোনো সময় ওই নম্বরে ফোন করলেই সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইন্দো-বাংলা প্রেসক্লাবের ওয়েবসাইটেও কীভাবে সুবিধা দেওয়া হবে তার সব তথ্য এবং ফোন নম্বর রয়েছে।

অন্যদিকে বড়দিন ও নতুন বছরকে সামনে রেখে নতুন রঙিন আলোয় সেজে উঠেছে নিউমার্কেট চত্বর। বাংলাদেশি পর্যটকদের স্বাগত জানাতে এবারই প্রথম এই উদ্যোগ নিয়েছে ‘মারকুইস স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।