এ কেমন বিদ্যালয়?

প্রানতোষ তালুকদারঃ ঢাকাস্থ সূত্রাপুর থানাধীন ৬৩ নং প্যারীদাস রোডে বাংলাবাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠার সন-১৯৭০ ইং এবং বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতাঃ জগদীশ চন্দ্র দাস ও সরকারীকরণ করা হয় ১৯৭৩ ইং সালে। বিদ্যালয়টির সম্পত্তি .০১১৪ অযুতাংশ এবং দৈর্ঘ্য ৩৬ ফুট ও প্রস্থ ১০ ফুট।

সরেজমিনে গিয়ে দেখলাম, বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে মোট ৩টি রুম, ৩ জন শিক্ষক ক্লাস নিচ্ছেন। প্রধান শিক্ষক নেই। প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদও শূন্য।

বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত দুই শিফ্টে লেখাপড়া হয়। মর্নিং শিফট্ ৮টা থেকে ১০টা ও ডে শিফট্ ১০.৩০ থেকে ২.৪৫ মিঃ পর্যন্ত। সর্বমোট ছাত্র-৪৫ জন।

বিদ্যালয়টিতে কোন টয়লেট নেই, পানি নেই, গ্যাস নেই, অফিস রুম নেই। বিদ্যালয়টির পিছনের রুমে ফ্যামেলী বসবাস করে ও উপরে দু’তলায় ফ্যামেলী বসবাস করে। ঐ ফ্যামেলীর লোকগুলো বিদ্যালয়ের ভিতর দিয়ে চলাচল করে। বিদ্যালয়টি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোন সময় ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকসহ ফ্যামেলীর লোকজন দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে পারে। মোট কথা বিদ্যালয়টির বেহাল অবস্থা।

শুনলাম, বিগত অক্টোবর/১৫ সালে বিদ্যালয়টি দেখার জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এসেছিলেন। কিন্তু তিনি আর কোন খোঁজখবর নেন নাই। দুঃখজনক একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় যেখানে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য, সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য, পানি নেই, বাথরুম নেই, টয়লেট নেই, অফিস রুম নেই, খেলার মাঠ নেই এবং বিদ্যালয়টি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোন সময় মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাতে কাহারো কোন মাথাব্যথা নেই।

এলাকার লোকজনের মুখে শুনলাম সরকারী চাকুরীজীবী ও বড় বড় ব্যবসায়ীরাও বেশিরভাগ নাকি কিন্ডার গার্ডেন বা ইংরেজি স্কুলে তাহাদের সন্তানদের লেখাপড়া করান। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাদের সন্তানদের পড়তে দেন না। তার জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি কারো মাথাব্যথা নেই। বিদ্যালয়টির প্রতি যদি সরকার সুদৃষ্টি হয় তাহলে বিদ্যালয়টির জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙ্গে নতুন করে ভবন নির্মাণ করে দিলে এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।