মাগুরায় শতাধিক অবৈধ ইটভাটা দূষণ বাড়ছে, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

0আব্দুস সালেক মুন্না মাগুরা প্রতিনিধি : প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্লিপ্ততার কারণে মাগুরায় ফসলি জমি ও আবাসিক এলাকায় একের পর এক গড়ে উঠেছে শতাধিক অবৈধ ইটভাটা। কোনো প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে টিনের চিমনি ব্যবহার করে অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা এসব ইট ভাটায় জ্বালানি হিসেবে প্রকাশ্যে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ।

অন্যদিকে ইট তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ফসলি জমির উপবিভাগের উর্বর মাটি। অবৈধ এসব ইটভাটার কারণে শুধু পরিবেশের বিপর্যয় ও ফসলের উৎপাদন হ্রাসপাচ্ছে তাই নয়,আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা ইট ভাটার ধুলোবালিতে শ্বাসকষ্ট অ্যাজমাসহ নানা অসুখে আক্রান্তহচ্ছেনএলাকারসাধারণমানুষ।

জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী গত বছর জেলার চার উপজেলায় ইটভাটা ছিল ৯৬টি। এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৬ টিতে। তবে জেলার কোনো ইটভাটারই নেই হাল নাগাদ লাইসেন্স। আবার মাত্র দুটি ছাড়া বাকিকোনো ভাটার নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন। জেলার মোট ১০৫টি ভাটার মধ্যে ২৪ টিতে জ্বালানি হিসেবে। পোড়ানো হচ্ছে কয়লা। বাকি৭৭টিভাটায়ইটপুড়ছেসরকারনিষিদ্ধকাঠদিয়ে। কছুন্দি, হুলিনগন, গয়েশপুর এলাকার ভুক্তভোগী বাসিন্দা আমির হোসেন, জবেদা বেগম, রবিউল ইসলাম, বাবলু মিয়াসহ অনেকে জানান, ইটভাটার ধোয়া ও ২৪ ঘণ্টা মাটিটানা ট্রাক চলাচলের কারণে ধুলায় তাদের ক্ষেতের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ধুলাবালিতে বাড়ি ঘরের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। প্রতিদিন তাদের খাবারের সঙ্গে মিশছে ধুলাবালি। যে কারণে তারা শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমাসহ নানা অসুখে আক্রান্ত হচ্ছেন।

স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তাদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাওয়া পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেছে। ইটভাটা মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় তারা প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। ভাটা মালিকরা এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজিহননি।এম এম বিব্রিকসের ম্যানেজার মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, তারা যা করছেন তা অনিয়ম। মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য একাজক রছেন। প্রশাসন তাদের অবৈধ কাজের জন্য অবশ্য নোটিশ জারি করেছে।শহরের নান্দুয়ালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার জেলা সভাপতি এটিএম আনিচুর রহমান বলেন, আবাসিক এলাকা ও ফসলি জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেনা।

মাগুরা সদর উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা আবুতালহা বলেন, ফসলি জমিতে ইটভাটা স্থাপন ও জমির উপ রিভাগের উর্বর মাটি কাটার ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে তাদের কোনো ক্ষমতা নেই। তারা শুধু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনেন।

মাগুরায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো কার্যালয় নেই। তবে এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম বলেন, অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ ইটভাটা বন্ধে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ধারা বাহিক ভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।