× Banner
সর্বশেষ
ওভারথিংকিং ডিটক্স ব্লুপ্রিন্ট বইটির মোড়ক উন্মোচন করলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, অধিকাংশ জেলায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরছে প্রস্তাবিত কর্পোরেট গভর্ন্যান্স রুলস ২০২৬ নিয়ে আইসিএসবির সিপিডি প্রোগ্রাম মাগুরায় ১০ হাজার গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান পানি সম্পদমন্ত্রীর মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে পুশইন চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি ঝিনাইদহে প্রথমবার পালিত হলো বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করাই পেশাদার সাংবাদিকতার মূল দর্শন – তথ্যমন্ত্রী Inner Wheel Club of Dhaka Cosmopolitan 2026–2027 Handover Ceremony & Collar Exchange Program ব্যবসা সম্প্রসারণেই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব, ব্যবসায়ীদের প্রতি পরিবেশমন্ত্রীর আহ্বান

দেবাশীষ মুখার্জী : কূটনৈতিক প্রতিবেদক

আমেরিকা কী ভিন্ন গ্রহে বসতি স্থাপন করতে পারবে?

Dutta
হালনাগাদ: বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৩
ভিন্ন গ্রহে বসতি স্থাপন

আগামী বছর আর্টেমিস এক্সপ্লোরেশন প্রোগ্রামে চাঁদে একজন পুরুষ ও একজন নারী পাঠাবে- আমেরিকার ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন(নাসা)। নাসার বিজ্ঞানী হাওয়ার্ড হু জানিয়েছেন, “আগামী দশ বছরের মধ্যে মানুষ চাঁদে বসবাস করতে পারবে।” ২০৩০ সালে আমেরিকা মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠাবে ― বসতি স্থাপন সম্ভব কিনা, তা জানার উদ্দেশ্যে। এবার এই ঐতিহাসিক পদযাত্রার পিছনের ঘটনাবলীর দিকে একটু আলোকপাত করা যাক।
২০০৯ সালের ১৮ই জুন ‘লুনার রিকনোসেন্স অর্বিটার’ বা এলআরও চাঁদে পাঠানো হয়েছিল৷ ৯ই অক্টোবর একটি রকেট ঘণ্টায় প্রায় ৯,০০০ কিলোমিটার বেগে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে কাবেয়াস নামের খাদে গিয়ে আছড়ে পড়ে৷ প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিটার গভীর ঐ খাদ৷ এর ঠিক ৪ মিনিট পর, আরেকটি মহাকাশযানের ক্যামেরা, স্পেকট্রোমিটার ইত্যাদি যন্ত্র নিয়ে ওই একই জায়গায় পৌঁছায়৷ রকেট আছড়ে পড়ার ফলে খাদের নিচ থেকে কোটি কোটি বছর ধরে অতল গহ্বরে জমে থাকা অনেক কিছুই উপরে উঠে আসে৷ অন্ধকার ওই গহ্বরে কোনদিন সূর্যের আলো প্রবেশ করে নি৷ মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা- চাঁদের মধ্যে খুঁজে পেল জমাট বরফের এক স্তর৷
যে কোন আবিষ্কারের মতোই- চাঁদে জলের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার ঘটনাও ছিল কাকতালীয়৷ হুবহু ওই এলাকায় অনুসন্ধান না চালালে হয়তো জলের স্তর চোখ এড়িয়ে যেত৷ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানী পিটার শুলৎস বলেন, ‘‘এ যেন পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধানের মতো প্রচেষ্টা৷ একবার কোন এক স্থানে পেট্রোলিয়াম খুঁজে পাওয়া গেলে, আশেপাশেও তা খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়৷”
নাশার ওই প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী অ্যান্টনি কোলাপ্রিট বলেন, ‘‘হ্যাঁ, আমরা জল খুঁজে পেয়েছি এবং এর পরিমাণও কম নয়৷ তবে এই জলে মেথানল রয়েছে। ফলে অপরিশোধিত অবস্থায় সেই জল পান করা যায় না৷ পান করলে অন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে৷ খাদের গভীরে জমে থাকা স্তর এবং উপরেরও অনেক স্তরে সেই জল পাওয়া গেছে৷ ঐ বরফ প্রায় মাইনাস ২৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ঠাণ্ডা বলে অনুমান করা হচ্ছে৷”
শুধু জল নয়, সেখানে আরও এমন কিছু চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা বিজ্ঞানীদের জন্য যথেষ্ট আগ্রহের বিষয়৷ অত্যন্ত শীতল ওই পরিবেশে কোটি কোটি বছর ধরে যা প্রবেশ করেছে, তা প্রায় সম্পূর্ণ অক্ষত রয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷
চাঁদের দক্ষিণ পৃষ্ঠে দ্বিতীয় বৃহত্তম গহ্বর ক্লেভিয়াস। রে-ক্রেটারের দক্ষিণে এই গহ্বরের নাম রাখা হয়েছে জার্মান গণিতজ্ঞ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী ক্রিস্টোফার ক্লেভিয়াসের নামে। চাঁদের বুকে তৈরি সবচেয়ে পুরনো গহ্বরগুলির মধ্যে একটি এই ক্লেভিয়াস। বিশাল এই ক্রেটারের মধ্যে কী রহস্য লুকিয়ে আছে তা জানার চেষ্টায়, নাসার বোয়িং ৭৪৭এসপি জেটলাইনার ‘সোফিয়া’ ৪৫ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে চাঁদের গহ্বরগুলির দিকে সতর্ক নজর রেখেছিল। নাসা ও জার্মান অ্যারোস্পেস সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছে জেটলাইনার সোফিয়া অর্থাৎ স্ট্র্যাটোস্ফেরিক অবজারভেটরি ফর ইনফ্র্যারেড অ্যাস্ট্রোনমি (SOFIA)।
সোফিয়া ২০২০ সালে নিশ্চিত ভাবে জানিয়েছে যে, পৃথিবী থেকে চাঁদের যে আলোকজ্জ্বল দিক ও গহ্বর দেখা যায় – সেখানে জলের অণুর সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। হাইড্রজেন ও অক্সিজেন মৌল জোট বেঁধে H2O জলের অণু তৈরি করেছে। মিশন সোফিয়া যে তথ্য পাঠিয়েছে, এটি চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবস্থান করে। চাঁদের মাটিতে ভারতীয় চন্দ্রযান- ২ এর ল্যান্ডার বিক্রমের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছিল নাসার লুনার রিকনোসেন্স অরবিটার।
নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের ফেলো কেসি হনিবল বলেছেন, “এক ঘনমিটার চাঁদের মাটিতে প্রায় ১২ আউন্সের একটি বোতলের সমান জল রয়েছে। পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক অঞ্চল সাহারা মরুভূমির মাটিতে যতটুকু জল আছে ― তার পরিমাণও চাঁদের মাটিতে থাকা জলের থেকে ১০০ গুণ বেশি।”
কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের পল হায়ানে জানান, “চন্দ্রপৃষ্ঠের প্রায় ৪০ হাজার বর্গকিলোমিটার জুড়ে জল জমাট বেঁধে রয়েছে বরফ হয়ে। দুই মেরুতেই এমন চিত্র। সেখানে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের অনেক নীচে, মাইনাস ১৬৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মনে করা হচ্ছে, কোটি কোটি বছর ধরে এই জল বরফ হয়ে অবস্থান করছে। অপরিশোধিত মিথানল মিশ্রিত সেই জল পান করলে মৃত্যু অবধারিত।”
২০১৫ সালে নাসার বিজ্ঞানীরা মঙ্গলের পৃষ্ঠে জলের প্রবাহ আবিষ্কার করেছেন৷ আমেরিকার মার্স এক্সপ্রেস অর্বাইটারে লাগানো আছে ‘মার্সিস’ নামে একটি রেডার ইনস্টুমেন্ট। এই যন্ত্র মঙ্গল গ্রহের ভূত্বকের বেশ উপর দিয়ে যেতে যেতে ভূত্বকে সিগনাল পাঠায়। প্রতিফলিত সিগনালের চরিত্র দেখে মঙ্গলের ভূত্বক ও তার নিচের অংশের মানচিত্র তৈরি হয়। তাতে দেখা গিয়েছে মঙ্গলের দক্ষিণ মেরু জমাট বরফে ঢাকা। এছাড়াও নাসার ‘ইউরোপা ক্লিপার’ মিশন ― বৃহস্পতি গ্রহের হিমায়িত উপগ্রহ ‘ইউরোপাফ্রোজেন স্যাটেলাইট’-এ জল ও অক্সিজেন রয়েছে বলে জানিয়েছে।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..