আঞ্চলিক মহাসড়কের বেহাল দশা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার ॥ ভোগান্তীতে পরিবহন চালকগণ

সৈকত দত্ত, শরীয়তপুর থেকে: মংলা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শরীয়তপুর অংশের ৩৭ কিলোমিটার যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা সড়কটির বেহাল দশা ও জন সাধারণের ভোগান্তি চরমে পৌঁচেছে। নিয়মিত দূর্ঘটনার শিকাড় হচ্ছে পণ্যবাহী পরিবহন। যাত্রী নিয়ে বিকল হয়ে সড়কে পড়ে থাকতে দেখা গেছে যাত্রীবাহী গাড়ি। ভোগান্তির ভয়ে কমছে আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলাচল। বিগত দিনের তুলনায় প্রতিমাসে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা রাজস্ব কমেছে বিআইডব্লিউটিসি’র।

শরীয়তপুর সড়ক বিভাগ সূত্র জানায়, মংলা সমুদ্র বন্দরের সাথে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের সরাসরি যোগাযোগ রাখতে সহজ পথ মাদারীপুর-শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৎকালী সময় (২০০১ সালে) এ সহজ মহাসড়কটি উদ্বোধন করেণ। এতে প্রায় দেড়শত কিলোমিটার পথ কমিয়ে এনে সময় বাঁচিয়েছেন ৫ ঘন্টা। অথচ সদর উপজেলার আঙ্গারিয়া বাজার থেকে চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরি ঘাট পর্যন্ত ৩৭ কিলোমিটার সড়কে সময় লেগে যায় দিনের পর দিন। অনেক সময় মালামাল ভর্তি ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান সহ বিভিন্ন প্রকার মালবাহী গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে থাকছে সড়কে। তাই জোড়া তালি দিয়ে কোন প্রকার সচল রাখা হয়েছে সড়কটি। চলতি বর্ষার সময়ে সড়কের অবস্থা আরও ভায়াবহ আগ্রাসী হয়ে পড়েছে। গাড়ির চাকা ডেবে সড়কের খানাখন্দ আরও ব্যপক হয়েছে। ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে গত রমজানে সড়ক ও জনপদ বিভাগ প্রায় সোয়াতিন কোটি টাকার বিনিময়ে সড়কের বড় বড় গর্ত সাময়িক মেরামত করে। মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে সড়কের অবস্থা সাবেক রূপ নিয়েছে। সোয়াতিন কোটি টাকার কাজ খুব একটা উপকারে আসেনি। প্রবল বর্ষনে সড়কে যান চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

মংলা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে নিয়মিত কাভার্ড ভ্যান চালক জাকির বলেন, তিনি নিয়মিত এ মহাসড়কে গাড়ি চালান। এর মধ্যে শরীয়তপুর অংশের প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা খুব খারাপ। আধ ঘন্টার রাস্তায় ৩/৪ ঘন্টা সময় লাগে। অনেক সময় সড়কের মাঝে যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে গাড়ি পড়ে থাকে। তখন সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। বিকল্প সড়কে গেলে ২৫০ কিলোমিটার রাস্তা বেশী ঘুরতে হয়। জ্বালানী লাগে প্রায় ৭০ লিটার বেশী। সময়ও লাগে বেশী লাগে ৫/৬ ঘন্টা। সময় ও জ্বালানী সাশ্রয় করতে এ সড়কে এসে হয়রানীর শিকাড় হই।

বিআইডব্লিউটিসি’র হিসেব মতে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৮৬ লক্ষ টাকা, মে মাসে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার  রাজস্ব কমে যায়। তারই ধারাবাহিকতায় জুন মাসেও রাজস্ব কমে দাড়িয়েছে ৬৫ লাখে। জুলাই মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫১ লক্ষ টাকা। আগষ্ট মাসেও রাজস্ব আদায় কমেছে তুলনা মুলক অনেক বেশী। এমনি ভাবে প্রতিমাসে রাজস্ব আদায় ঘাটতির মূলে রয়েছে সড়কের বেহাল দশা বলে দাবী করলেন বিআইডব্লিউটিসি কর্মকর্তাগণ।

বিআইডব্লিউটিসি’র  শরীয়তপুর ঘাট ইনচার্জ আঃ ছাত্তার বলেন, এ সড়কটি জনপ্রিয়তা করতে আন্তরিক ভাবে কাজ করছি। চট্টগ্রাম-মংলা সমুদ্র বন্দরের সড়ক পথে যোগাযোগ রক্ষার্থে সকটি সুপরিচিত ও সংক্ষিপ্ত। কিন্তু শরীয়তপুর অংশের ৩৭ কিলোমিটার সড়ক যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী। সে ক্ষেত্রে যান চলাচল অর্ধেকে নেমে এসেছে তাই রাজস্বও আদায় হচ্ছে প্রায় ৫০ শতাংশ কম। সড়কে একটা ট্রাক বিকল হলে মূহুর্তেই দেশের সকল ট্রাক চালকদের কাছে সংবাদ পৌঁছে যায়। তখন এ সড়কে আর গাড়ি চলে না।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মিন্টু রঞ্জন দেবনাথ বলেন, এ সড়কে ৩০টন পর্যন্ত লোড ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান চলে তাই দ্রুত সড়কটি খারাপ হয়ে যায়। এত লোডের চাপ নেয়ার মতো করে সড়কটি তৈরী করা হয় নাই। তাই সড়কে কিছু খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা প্রতিদিনই সড়ক মেরামত করছি। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকতাদের জানানো হয়েছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।