আজ জামায়েত ইসলামীর সকাল-সন্ধ্যা হরতাল

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীকে ‘হত্যার সরকারি ষড়যন্ত্রের’ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনিসহ আটক সব জামায়াত নেতার মুক্তির দাবিতে আজ সকাল-সন্ধ্যা শান্তিপূর্ণ হরতাল কর্মসূচি দিয়েছে জামায়াত।
আজ সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে কর্মসূচি। জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা: শফিকুর রহমান গতকাল এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে একের পর এক হত্যা করছে। সরকারের সেই ষড়যন্ত্রের শিকার মীর কাসেম আলী। সরকার তথাকথিত মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার মিথ্যা, বায়বীয় ও কাল্পনিক অভিযোগে মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে নিজেদের দলীয় লোকদের দ্বারা আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করিয়ে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। আদালত সরকারের দায়ের করা মিথ্যা মামলায় সাজানো সাক্ষীর ভিত্তিতে তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের রায় ঘোষণা করেছেন। এ রায়ে তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
ডা: শফিক বলেন, মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে সরকারের আনীত অভিযোগের সাথে তার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতাও নেই। সরকারপক্ষ আদালতে মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে যেসব ডকুমেন্ট দাখিল করেছে সেখানে মীর কাসেম আলীর নাম নেই। অভিযোগে ঘটনার স্থান, সময় এবং যে তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে সরকারের দাখিল করা ডকুমেন্ট অনুযায়ী ওই সময়ে মীর কাসেম আলী ওই স্থানে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি তখন ঢাকায় ছিলেন। মীর কাসেম আলী তার ঢাকায় অবস্থানের প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করেছেন। তাতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় যে, অভিযোগ সংঘটিত হওয়ার সময়ে মীর কাসেম আলী ঢাকায় ছিলেন, চট্টগ্রামে ছিলেন না। চট্টগ্রামের ঘটনাস্থলে তার অনুপস্থিতির প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সরকারপক্ষ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করিয়ে তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার ব্যবস্থা করেছে। জনগণ সরকারের দায়ের করা মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলার রায় গ্রহণ করেনি।
তিনি বলেন, সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য বিচারের নামে যে প্রহসনের আয়োজন করেছে দেশে-বিদেশে তার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। সরকারের মন্ত্রী ও দলীয় নেতাগণ বিভিন্ন সময়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতিদের লক্ষ্য করে যে বক্তব্য রেখেছেন তা আদালতের ওপর এক নগ্নচাপ সৃষ্টি করা ছাড়া আর কিছু নয় বলে দেশের জনগণ মনে করে। সরকারের প্রভাবে মীর কাসেম আলী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে তার পরিবার-পরিজন মনে করেন। ট্রাইব্যুনালের বিচার থেকে শুরু করে রিভিউ পর্যন্ত এ মামলার বিভিন্ন স্তরে সরকারের পক্ষ থেকে দফায় দফায় বিচারকে প্রভাবিত করার জন্য অবাঞ্ছিত ভূমিকা পালন করা হয়েছে। সরকারের এ ভূমিকা বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। দেশবাসী অবগত আছেন যে, সরকারি পৃষ্ঠপোকতায় শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ স্থাপিত হওয়ার পর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ‘সমাবেশের দাবি বিবেচনায় নিয়ে রায় দেয়ার’ জন্য বিচারপতিদের প্রতি আহ্বান জানান। আপিল বিভাগের রায়ের আগে সরকারের দুইজন মন্ত্রী মীর কাসেম আলীর মামলা নিয়ে বেআইনি বক্তব্য দিয়েছিলেন। সে জন্য আদালত তাদের শাস্তি দিয়েছিলেন।
ডা: শফিকুর রহমান মীর কাসেম আলীকে হত্যার সরকারি ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ও তিনিসহ জামায়াতের আটক সব নেতার মুক্তির দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আজ বুধবার সারা দেশে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে। এ কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সফল করার জন্য দলের সব শাখা এবং দেশের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি, হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, হজযাত্রীদের বহনকারী যানবাহন ও সংবাদপত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট গাড়ি হরতালের আওতামুক্ত থাকবে। বিজ্ঞপ্তি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।