নাগরপুরে অভাবের তাড়নায় ১০ দিনের শিশু পুত্রকে বিক্রি!

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তার “হে মহাজীবন” কবিতার শেষ দুটি লাইনে লিখেছেন, “ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়ঃ পূর্ণিমার-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি। সেই ক্ষুধার জ্বালা সইতে না পেরে, সংসারের ছয়টি পেটের জন্য ঝলসানো রুটি জোগার করতে ১০ দিনের শিশু পুত্রকে বিক্রি করে দিলেন এক হত-দরিদ্র বাবা-মা।

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ঘিওর কোল গ্রামে ঘটেছে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি।

জানা যায়, নাগরপুর উপজেলার উপকণ্ঠ ঘিওরকোল গ্রামের হতদরিদ্র মো. মাজেদ আলীর পালিত পুত্র মো. লুৎফর মিয়া (৩৫)। সহায় সম্বল বলতে মাথা গুজার জন্য মাত্র ৩ শতাংশ জমি রয়েছে তার। তিনি একই উপজেলার দক্ষিণ দুয়াজানী গ্রামের করিম মিয়ার মেয়ে ফরিদা বেগমকে (২৫) বিয়ে করে। তারা সাংসারিক জীবনে ৩টি পুত্র ও ১টি কন্যা সন্তানের জনক জননী। তাদের বড় সংসারে অভাব ছিল নিত্য সঙ্গী। প্রিয় সন্তানদের বুকে আঁকড়ে ধরে নতুন করে বাচার চেষ্টা করেন। দু-বেলা দু-মুঠো ভাত সন্তানদের মুখে তুলে দিতে উপায়ন্তর না পেয়ে বাবা মা কর্মের সন্ধানে গাজীপুর চলে যান। সেখানে নিজে রিকশা আর স্ত্রী ফরিদা বেগম গার্মেন্টে কাজ করে জীবন সংগ্রামে নেমে পড়ে। কিন্তু বিধি বাম। ৬ সদস্যের সংসার চালাতে গিয়ে তার হাঁপিয়ে উঠে। অভাব অনটন ডানা মেলে আরো প্রকট হয়ে ওঠে। চোখের সামনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। অনাহার অর্ধাহারে চলতে থাকে তাদের জীবন। এভাবে আর কতদিন। ছোট ছোট ছেলে মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাদের মুখে অন্ন তুলে দিতে অবশেষে ছোট শিশু পুত্রকে বেঁচে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা। যেমন কথা তেমন কাজ।

সোমবার বিকেলে দেলদুয়ার উপজেলার তাতশ্রী গ্রামের নিঃসন্তান মো. রতন মিয়ার কাছে নাড়ি ছেঁড়া ধন দশ দিনের শিশু পুত্রকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। রতন মিয়া ১৫ হাজার টাকা নগদ লুৎফরকে দিয়ে আর ৫ হাজার টাকা চুক্তিপত্রের সময় পরিশোধ করার অঙ্গিকার করে শিশু পুত্রকে তার বাড়িতে নিয়ে যান।

এ ব্যাপারে রতন মিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বিবাহিত জীবনে নিঃসন্তান তিনি। সন্তানের অভাব পূরণের জন্য ওই শিশু পুত্রকে কেনা হয়েছে। তবে তার লালন পালনে কোন প্রকার অযত্ম অবহেলা হবেনা বলেও তিনি জানান।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।